বন্ধ রেডিও সেন্টার, চাল-ডাল বিক্রি করে দিন গুজরান হয় পরিচালক নবাবের

221

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: এক সময়ে গ্রামে রেডিও সেন্টার চালাতেন। তাঁর নির্দেশ মতো রাত-দিন গান, গল্প-কাহিনী শুনিয়ে আমজনতার মন কাড়তেন শিল্পীরা। শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় নবাব আলির রেডিও সেন্টার ঠাঁই পেয়েছিল। যদিও, সেসব আজ অতীত। নেই নবাব আলির রেডিও সেন্টার। নেই শ্রোতাদের আবদার। তা প্রায় বছর চারেক হল। যদিও রেডিও সেন্টারের স্মৃতি আজও অমলিন নবাবের কাছে। পড়ে রয়েছে ফাঁকা সেন্টার। যা প্রতিনিয়ত অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয় নবাববাবুকে।

নবাব আলি। রায়গঞ্জ ব্লকের লৌহুজ গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় সামান্য রেডিও মেকার ছিলেন। ২০১২ সালে এক বন্ধুর পরামর্শে রেডিও সেন্টার চালু করেন৷ শ্রোতাদের মন কাড়তে কোনও কসুর রাখতেন না। সারাদিনই গান, কাহিনীর আসর চলত। এরই সুবাদে নবাববাবুর আয় খুব একটা কম ছিল না। মাস প্রতি আয় হত কমপক্ষে হাজার টাকা। তবে, শুধু নবাববাবু লাভের মুখ দেখেননি। নবাববাবুর রেডিও সেন্টারের দৌলতে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন স্থানীয় রেডিও বিক্রেতারাও। যদিও হাইটেক যুগে নবাব আলির রেডিওর কদর কমতে শুরু করে৷ ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন শ্রোতারা। কমতে থাকে উপার্যন। এই পরিস্থিতিতে রেডিও সেন্টারের ঝাপ বন্ধ করতে বাধ্য হন নবাব আলি। বিক্রি করে দেন রেডিও সেন্টারের সমস্ত সরঞ্জাম। তবে, পড়ে রয়েছে কিছু স্মৃতি আর সেই ফাঁকা সেন্টার।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে সংসারের হাল ধরতে শেষমেশ মুদিখানা দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই মোতাবেক বছর চারেক আগে রেডিও সেন্টার থেকে কয়েক মিটার দূরেই খুলে বসেন মুদি দোকান। চাল, ডাল, নুন, তেল বিক্রি করে দিনে ২০০ টাকা উপার্যন করতে হিমসিম খাচ্ছেন তিনি। তবে, হাল ছাড়েননি। মুদি দোকানেই ভরসা রেখেছেন তিনি৷ কেননা, তিনি বেশ স্পষ্ট বুঝতে পারছেন এখন চাইলেও রেডিও সেন্টার চালু করে শ্রোতাদের মন কাড়া সম্ভব নয়৷

সরকারি অনুমোদন না থাকলেও এক সময়ে যে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল তা স্পষ্ট স্থানীয়দের কথায়। অন্যদিকে, কথা প্রসঙ্গে নবাববাবুকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার স্টেশনের ফ্রিকোয়েন্সি ছিল ১০৭.৮। গ্রাম থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের শ্রোতারাও স্পষ্ট শুনতে পেতেন আমাদের অনুষ্ঠান।’ গলা কিছুটা কেঁপে ওঠে নবাব আলির।