সিলিন্ডার ফেটে মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ নিয়ে ৩ স্ত্রীর বিবাদ

231

কিশনগঞ্জ: গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা সাহায্যের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার ওই পরিবারের আহত এক বধূর সঙ্গে দেখা করে একথা জানান মহকুমা শাসক শাহনেওয়াজ আহমদ নিয়াজি। এছাড়াও কিশনগঞ্জ পুরসভার তরফেও ওই পরিবারকে এককালীন ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রকল্পের আওতায় মৃতদেহ সৎকারের জন্য ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, জেলার সামাজিক সুরক্ষা দপ্তরের তরফে ঘটনায় মৃত নূর আলমের তিন বিধবা স্ত্রীকে প্রতিমাসে মাথাপিছু ৪০০ টাকা করে বিধবা ভাতা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

রবিবার গভীর রাতে কিশনগঞ্জের সালামকলোনিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় একই পরিবারের পাঁচজনের। ঘটনায় মৃত্যু হয় বাবা ও চার সন্তানের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম মহম্মদ নূর আলম (৪৪), তৌফা পারভিন (১০), শবনম পারভিন (৮), রহমত (৬) ও শাহিদ (৩)। গুরুতর জখম নূর আলমের স্ত্রী শাহজাদিকে চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়িতে পাঠানো হয়। পরে সোমবার রাতে শাহজাদিকে শিলিগুড়ি থেকে নিয়ে এসে কিশনগঞ্জের সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে শাহজাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ দেবেন্দ্র কুমার।

- Advertisement -

অপরদিকে, ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অশান্তি বেধে গিয়েছে। কারণ মৃত নূর আলমের তিনজন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী সিমমি বেগম, দ্বিতীয় শাহজাদি বেগম এবং তৃতীয় স্ত্রী হলেন সীমা বেগম। অবশ্য এই ঘটনায় আহত শাহজাদি স্বামী ও চার সন্তানকে হারিয়েছেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে প্রায় পারিবারিক অশান্তি বেধে গিয়েছে। কেননা পরিবারের কেউ বলছেন, বাড়ির বড় বউ সীমা বেগম আসল ওয়ারিশ। আবার কেউ বলছেন, এই ঘটনায় মেজ বউ শাহজাদি স্বামী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলেকে হারিয়েছেন। তাই আসল ওয়ারিশ তিনিই। আবার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, তিনজনকে সমান সমান ভাবে লক্ষাধিক টাকা ভাগ করে দেওয়া উচিত। কিন্তু এই ঘটনায় গুরুতর আহত কিশনগঞ্জের সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়ায় তাঁর কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাকি দুই বধূও কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ইতিমধ্যেই তিনজন স্ত্রীই এই মর্মে আদালতে নিজ নিজ পক্ষের দাবির জন্যে শপথপত্র বা এফিডেভিট-এর জন্য যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও এই বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার কর্তাদের বক্তব্য, ‘এই সমস্যা মৃত ব্যক্তির পারিবারিক সমস্যা ও আইনি বিষয়। এই নিয়ে কোনও ধরনের মন্তব্য করতে পারি না।’