ভোট বড়ো বালাই, আদর্শ গ্রাম সরল অন্যত্র

রণজিৎ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : লোকসভা ভোটের আগে রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১৮ নম্বর সিদ্দিকিয়া বুথকে আদর্শ গ্রাম করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রাথমিক কাজও শুরু হয়। ভোটপর্ব মিটতেই সেই আদর্শ গ্রাম সরে গিয়েছে অন্যত্র। সেখান থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অন্য বুথে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত এলাকার মানুষ। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের অঙ্গুলি হেলনে প্রকল্প সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দলের একটা অংশের অভিযোগ।

এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১৮ নম্বর বুথের বিন্নাবাড়ি, লক্ষ্মীস্থান, বরুয়াগছ, ভুগরিভিটা ও ট্যাংনাপাড়া উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এলাকা। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প বা বর্ডার এরিয়া ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর অধীনে ওই গ্রামগুলিকে আদর্শ গ্রাম করার জন্য গত ১ মার্চ বিন্নাবাড়িতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন। সেই অনুষ্ঠানে রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়, জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের কো-মেন্টর অহিদার রহমান সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান থেকে ঘোষণা করা হয় একটি কমিউনিটি হল, একটি হাট শেড, ১৪টি গভীর নলকূপ, দুই কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও সাতটি কালভার্ট তৈরি করার জন্য প্রাথমিকভাবে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফেও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়। ঘোষণা অনুয়ায়ী রাস্তার কাজ শুরু হলেও অনেকদিন থেকে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

- Advertisement -

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কয়েদিন আগে হাট শেড ও কমিউনিটি হল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ঘোষিত স্থান থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বুথের বিহারু হাটে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিন্নাবাড়ি সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। আব্দুল রেজ্জাক, তহিজুল মহম্মদ প্রমুখ বাসিন্দা বলেন, কে বা কাদের মদতে প্রকল্প অন্য জায়গায় করা হচ্ছে জানি না। এটা আমরা কোনোমতেই হতে দেব না। প্রযোজনে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। কিষান তৃণমূলের কার্যকরী অঞ্চল সভাপতি রুস্তম আলি বলেন, লোকসভা ভোটের আগে দলের স্থানীয় নেতারা গ্রামবাসীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন সিদ্দিকিয়া বুথে তৃণমূল বেশি ভোট পেলে প্রতি বাড়িতে শৌচালয়, পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করে দেবেন। এমনকি ভোটের আগের মুহূর্তে সাংসদ, বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আদর্শ গ্রামের কাজের উদ্বোধন করে গিয়েছেন। ভোটে তৃণমূল লিড পেয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রকল্প অন্য বুথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতাদের মদত ছাড়া এটা হতে পারে না।

জেলাপরিষদের কো-মেন্টর বলেন, ওই প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গ্রামবাসীরা আমাকে জানিয়েছেন। তবে কেন স্থান পরিবর্তন হল তা আমার জানা নেই। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মল্লিকা রায় বলেন, ওই প্রকল্পটি আমার এক্তিয়ারে পড়ে না। বিডিও অফিস থেকে করা হচ্ছে। রাজগঞ্জের বিডিও এন সি শেরপা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।