প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় অসন্তোষ, অবস্থান-বিক্ষোভ বিজেপি কর্মীদের

80

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় মালদা জেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পার্টি অফিসে ভাঙচুর, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। শুক্রবার সকাল থেকেও বিজেপি জেলা কার্যালয়ে আবস্থান-বিক্ষোভে বসেন বিক্ষুদ্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। প্রার্থী বদলের দাবিতে পার্টি অফিস ঘেরাও করে চলছে বিক্ষোভ।

গতকাল গাজোলের কদুবাড়ি মোড় এলাকায় পার্টি অফিস ভাঙচুর এবং বাইরে ফ্ল্যাগ, ফেস্টুনে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান বেশকিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক। তাঁদের দাবি গাজোলে যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের কাছে বলিষ্ঠ প্রমাণ আছে। এই প্রার্থীকে বদল করে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কাউকে প্রার্থী করতে হবে। একদিকে প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ, আর অন্যদিকে তাঁদের সম্প্রদায়ের কাউকে প্রার্থী না করায় মতুয়াদের বিক্ষোভ। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সমস্ত কিছুই সাময়িক। কয়েকদিনের মধ্যেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, ইটাহারের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অমল আচার্যকে প্রার্থী করা যাবে না, এই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতভর তাণ্ডব চালায় বিক্ষুব্ধ বিজেপির কর্মীরা। ইটাহারের বহু বিজেপি কর্মী জেলা কার্যালয় ভাঙচুর চালান। তাঁরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর ফ্লেক্স-ফেস্টুন ছিড়ে দেন। কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। গতকাল বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে। ইটাহার ও করণদিঘি আসন দুটি ফাঁকা রেখে ৭টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে নেতৃত্ব। ইটাহারের বিজেপি কর্মীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় বিদায়ী বিধায়ক অমল আচার্যকে দল প্রার্থী করবে বলে সেই আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। তাঁরা ইটাহার থেকে রাতেই রায়গঞ্জে চলে আসেন। জেলা নেতৃত্বকে তাদের আশঙ্কার কথা জানালেও কোনও আশ্বাস না পেয়ে প্রতিবাদে শামিল হন তাঁরা। করণদিঘিতে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা না হলেও বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনোদেব সিনহা টিকিট পেতে পারেন এমন আঁচ পেয়েই করণদিঘিতে দলের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক। বিজেপি কার্যালয়ের সামনে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এদিন বাঁশ, কাগজ ও টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

হরিরামপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। সবঠিক হয়ে যাবে আশ্বাস প্রার্থী নীলাঞ্জনা রায়ের। এদিন দুপুরে হরিরামপুরের বিজেপির নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। প্রথমে বিজেপি অফিসে তালা লাগিয়ে বহিরাগত প্রার্থী মানছি না এই শ্লোগানে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য শ্যামল দাস সহ বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সদস্য পাপাই রায়।

প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি অফিসে প্রাক্তন জেলা সভাপতি দীপেন প্রামাণিকের অনুগামীরা ভাঙচুর করেন। দীপেন প্রামাণিককেই জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী করার দাবি তুললেন তাঁর অনুগামীরা। শুক্রবার দীপেন প্রামাণিকের অনুগামীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে জলপাইগুড়ি শহরে ধিক্কার মিছিল করেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় জেলা বিজেপি অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর সময় দলের বর্ষীয়ান নেতা দেবেন্দ্র পাণ্ডে নিগৃহীত হন বলে অভিযোগ। জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামি তাঁকে চক্রান্ত করে খুনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে এদিন কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও বাপি গোস্বামির প্রতিক্রিয়া, তিনি জেলা অফিস ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছেন। পুলিশকে জানিয়েছেন। তিনি গতকাল সারা দিনরাত দলের কাজে শহরের বাইরে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে।