দামোদর চরে অবাধে চলছে চোলাই মদের কারবার,নির্বিকার প্রশাসন

338

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বিষাক্ত চোলাই মদ পানে মৃত্যু এই রাজ্যে নতুন কোনও ঘটনা নয়। বিষাক্ত মদ পানে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে শতাধীক মানুষের মূত্যু হয়েছিল দক্ষিন ২৪ পরগনার সংগ্রামপুরে। একই কারণে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয় নদীয়ার শান্তিপুরের চৌধুরীপাড়া গ্রামে। এত মানুষের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য জুড়ে হইচই হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আজও পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ এই রাজ্যে চোলাই মদের কারবার বন্ধ করতে পারেনি।

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের হৈবতপুর এলাকার দামোদরের চরে চোলাই কারবারিরা এখনও দিনের আলোয় দেদার তৈরি করছে চোলাই মদ। কার্যত দামোদরের চরই এখন হয়ে উঠেছে চোলাই মদ তৈরির নিরাপদ শিল্প তালুক। বিভিন্ন রাসায়নিক সহযোগে তৈরি সেই মদ জেলার বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি ভিন জেলাতেও পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই মদ পানের কারণে শান্তিপুর কিংবা সংগ্রামপুরের মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেগেলে অবাক হবার কিছু থাকবে না বলেই মনেকরছেন হৈবতপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

- Advertisement -

জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম হৈবতপুর। এই গ্রামের এক পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। সেই দামোদরের বিস্তীর্ণ চর এখন ঢাকা পড়েছে ঝোপ জঙ্গলে। নির্জন ওই ঝোপের মাঝখানে বড় বড় উনান জ্বালিয়ে সারাদিন ধরে দলে দলে চোলাই কারবারীরা তৈরি করছে চোলাই মদ। বুধবার সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মদ তৈরি ফেলে একের পর এক ছুটে পালায় চোলাই কারবারীরা। সেখানকার বিস্তীর্ণ ঝোপ জঙ্গলে ঘুরে দেখাযায় নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর জ্বলছে উনান। সেই সব উনানে বড় বড় হাঁড়িতে ফুটিয়ে তৈরি হচ্ছিল চোলাই মদ। তারই আশে পাশে পড়ে থাকতে দেখায়ায় একাধিক টিনের ড্রামে ভরে রাখা গুড়, ইস্ট,ইউরিয়ার বাট ও বেশকিছু বড় আকারের টাবলেট। এই সব দেখেই স্পষ্ট হয়েযায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই সকল রাসায়নিক ব্যবহার করেই তৈরি হচ্ছিল চোলাই মদ।

হৈবতপুর গ্রামের অপর বাসিন্দা সৌরভ ঘোষ, দিব্যেন্দু দলুই প্রমুখরা বলেন, তাঁদের এলাকায় দামোদরের চরে ঝোপ জঙ্গলে মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চোলাই মদ তৈরি চলছেই। দিব্যেন্দু বলেন, ‘যেসব দ্রব্য ব্যবহার করে ওই মদ তৈরি হয় তা মানব শরীরের পক্ষে হানিকর। এ কারণে এই চোলাই মদ খেয়ে যদি শান্তিপুর কিংবা সংগ্রামপুরের মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’

অপর এক বাসিন্দা দেবাশিষ ঘোষ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হৈবতপুর এলাকায় দামোদরে অবৈধ বালি খাদান ও চোলাই মদের কারবার চলেছে। ওই চোলাই মদের বর্জ ফেলা হচ্ছে দামোদরে। তার ফলে দামোদরেও দূষণ বাড়ছে। প্রশাসন কড়া পদক্ষেন না নিলে এইসব অবৈধ কাজ কোনও দিনও বন্ধ হবে না।’

বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের হৈবতপুর গ্রামের সদস্য প্রতিভা ঘোষ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কিছু লোক দামোদরের চরে ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে চোলাই মদ তৈরি চালিয়ে যাচ্ছে। এরজন্য এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। প্রতিভাদেবী জানান, এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কোনও কোনও সময়ে পুলিশ ও আবগারী দপ্তরের লোকজন ওই জায়গায় হানা দেয়। তাঁরা চোলাই কারবারীদের কাউকে কাউকে তুলে নিয়েযায়। আবার তাঁরা ছাড়াও পেয়ে যায়। তাই দামোদরের চরে মদ তৈরি চলছেই। পঞ্চায়েত সদস্য আরও বলেন ,আমরা চাই প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিয়ে দামদরের চরে চোলাই মদ তৈরি বন্ধ করুক।”

জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, “দামোদরের চরে অবাধে চোলাই মদ তৈরি হচ্ছে এমন ঘটনা জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি। ঘটনা যদি সত্যি হয় তবে সবিস্তার উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি কড়া আইনানুগ পদক্ষেপও নেওয়া হবে।”