ভোটার কার্ড বিলিতে ‘বিতরণ’ অ্যাপ

112

আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটকর্মীদের করোনার টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ। এই ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলবে আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত। অন্যদিকে, ‘বিতরণ’ নামে রাজ্যে প্রথম পশ্চিম বর্ধমান জেলায় জেলাশাসকের তরফে একটি অ্যাপস চালু করা হল। মূলত ভোটার কার্ড বিতরণের জন্য এই অ্যাপস কাজ করবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার জেলায় নতুন ভোটার ও সংশোধিত ভোটার মিলিয়ে লক্ষাধিক সচিত্র পরিচয়পত্র বা ভোটার কার্ড তৈরি করা হয়েছে। জেলার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা যখন সেই কার্ড বিলি করতে যাবেন তখন ভোটারের হাতে কার্ড দেওয়ার সময় ছবি তুলবেন। সেই ছবি সঙ্গে সঙ্গে ‘বিতরণ’ অ্যাপসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে জেলা নির্বাচন দপ্তরে। প্রয়োজনে সেখান থেকে কমিশন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। সেই মুহূর্তে যদি সিগনালিংয়ের কোন সমস্যা হয় তাহলে ঐ দিনই সেই ছবি অন্য জায়গা থেকে পাঠাতে হবে। এতে ভোটার কার্ড সঠিক ভোটারের হাতে পৌঁছোনোর নিশ্চয়তা তৈরি হবে। পাশাপাশি কোন ভোটার বলতে পারবেন না যে তিনি ভোটার কার্ড পাননি। জেলা প্রশাসনের এই অভিনব উদ্যোগে ভোটাররাও খুশি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সব মিলিয়ে এবার ১৫ হাজার ১৭৬ জন ভোট কর্মী ভোটের কাজ করবেন। তাদের মধ্যে মহিলা ভোটকর্মীর সংখ্যা ২ হাজার ২৩২ জন। পুরুষ ভোট কর্মীর সংখ্যা ১২ হাজার ৯৪৪ জন। যারা এবার প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজ করবেন তাদেরকে বৃহস্পতিবার থেকে  করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দিন ৩২০২ জন পুরুষ ও ৫৫৯ জন মহিলা ভোটকর্মীকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রথম পোলিং অফিসারদের ২৬ ফেব্রুয়ারি করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এদিন ৩২৪৮ জন পুরুষ ও ৫৬০ জন মহিলা ভোট কর্মী ভ্যাকসিন নেন। একইভাবে দ্বিতীয় পোলিং অফিসার হিসাবে ৩২৬১ জন পুরুষ ও ৫৭০ জন মহিলা ভোট কর্মী ২৭ ফেব্রুয়ারি ও তৃতীয় পোলিং অফিসার হিসাবে ১ মার্চ, ৩২৩৩ জন পুরুষ ও ৫৪১ জন মহিলা ভোট কর্মীকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। প্রত্যেক ভোটকর্মীকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ ডাঃ অশ্বিনী কুমার মাজি বলেন,  ‘জেলা থেকে বিভিন্ন প্রান্তে ৪৬টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ভোট কর্মীদের করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেকেই বলা হয়েছে তাঁরা যেন নির্দিষ্ট দিনে ভ্যাকসিন নেন।’