অরুণ ঝা, ইসলামপুর : ইসলামপুরে ভুয়ো চিকিৎসক চিহ্নিতকরণ এবং নার্সিংহোমগুলির পরিসেবা খতিয়ে দেখতে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি স্বাস্থ্য দপ্তর। শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হলেও অনেকেই সেই নিয়ম মানছেন না। স্বাস্থ্য দপ্তরও এ ব্যাপারে কোনোরকম কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে অনেক ভুয়ো চিকিৎসকও রমরমিয়ে প্র‌্যাকটিস করে চলেছেন। এমন সম্ভাবনার কথা অবশ্য অস্বীকার করেননি স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব। স্বাস্থ্য পরিসেবা নিয়ে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম এবং বেআইনি কারবার বরদাস্ত করা হবে না। যাতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয় তার জন্য সমস্ত আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হবে।

ইসলামপুর শহরে এর আগে লাইসেন্সবিহীন নার্সিংহোমে রোগীমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারপরও ইসলামপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বহিরাগত প্রচুর চিকিৎসক রোগী দেখছেন। প্রায় সমস্ত ওষুধের দোকানে চিকিৎসকরা চেম্বার খুলেছেন। কিন্তু এঁদের অধিকাংশেরই যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ চিকিৎসকই প্রেসক্রিপশনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করছেন না। ফলে তাঁদের আদৌ ডিগ্রি রয়েছে কিনা, তা জানতে পারছেন না কেউই। স্বাস্থ্য দপ্তরও ওই চিকিৎসকদের নথিপত্র খতিয়ে দেখতে লাগাতার নজরদারি করে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ওয়াকিবহাল মহল। একইভাবে ইসলামপুর মহকুমায় অবৈধ নার্সিংহোম এবং প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের হদিস মিলেছে। সম্প্রতি গোয়ালপোখর থানা এলাকায় মহকুমা প্রশাসনের সক্রিয়তায় একটি অবৈধ ল্যাব সিল করা হয়েছে। এর আগে জেলার এক স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছিলেন য়ে, বিহার লাগোয়া এলাকা হওয়ায় ইসলামপুরে সবই সম্ভব।

- Advertisement -

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নার্সিংহোমগুলিতেও স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়মিত নজরদারি কার্যত নেই বললেই চলে। ফলে ওই নার্সিংহোমগুলিতে কী ঘটছে তার খতিয়ান দপ্তরের কাছে নেই। বড়ো ঘটনা ঘটলে প্রশাসন একটু নড়েচড়ে বসে, আবার কিছুদিন পর নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিসেস ডক্টরসের ইসলামপুরের সম্পাদক ডাঃ পার্থ ভদ্র বলেন, প্রেসক্রিপশনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া নম্বর থাকলেও তা ঠিক না ভুল এটা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কখনোই সম্ভব নয়। ফলে স্বাস্থ্য দপ্তর নিয়মিত অভিযান চালালে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েনের ইসলামপুরের সভাপতি ডাঃ শান্তনু দত্ত বলেন, আমরা সাংগঠনিকভাবে সতর্ক রয়েছি। স্বাস্থ্য দপ্তর নিয়মিত নজরদারি চালালে সমস্যা অনেকাংশেই মিটে যাবে।