বালুরঘাট হাসপাতালে রূপান্তরকামীদের জন্য নির্দিষ্ট শয্যা সংরক্ষিত করল জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর

205

বালুরঘাট, ১১ ফেব্রুয়ারি: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সদর বালুরঘাট হাসপাতালে তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরকামীদের জন্য নির্দিষ্ট শয্যা সংরক্ষিত করল জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। মঙ্গলবার হাসপাতালের মেডিসিন ব্লকে চারটি শয্যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আগামীদিনে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালেও রূপান্তরকামীদের জন্য শয্যা সংরক্ষণের কথা চিন্তাভাবনা করছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। উত্তরবঙ্গে এই প্রথম এমন উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। এদিন শয্যা সংরক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আদালতের বিচারক শুভ্রসোম ঘোষাল, হাসপাতালের সুপার তপন বিশ্বাস, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে ও রূপান্তরকামীদের তরফে বনি রায় প্রমূখ।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আটটি ব্লকেই ৪০০ এর বেশি ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী রয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকতে গিয়ে তাদের সমস্যা হয়। কোন ওয়ার্ডে ভরতি করা হবে তা নিয়েও দেখা দেয় সমস্যা। যে কারণে হাসপাতালে আলাদা শয্যার দাবি জানিয়েছিল রূপান্তরকামীরা। গত সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠানে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সম্পাদিকা কুসুমিকা দে মিত্রের কাছে রূপান্তরকামীরা শয্যার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এরপর কুসুমিকাদেবী জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে পুরো বিষয়টি জানান। তারপরেই জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের উদ্যোগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সদর হাসপাতালে আলাদা শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে শয্যার পাশাপাশি পৃথক শৌচালয়েরও দাবি জানিয়েছেন রূপান্তরকামীরা। স্বাস্থ্যদপ্তর ও জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ রূপান্তরকামীদের অন্য দাবিগুলি খতিয়ে দেখে তা পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে জানান, ‘ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের জন্য আগে দুটি শয্যা চিহ্নিতকরণ করা হলেও মঙ্গলবার চারটি শয্যা সংরক্ষিত করা হলো। এরপর থেকে ওই শয্যায় অন্য কোনো রোগী ভরতি হতে পারবেন না। এক তলার মেডিসিন ব্লকেই শয্যাগুলি বরাদ্দ করা হয়েছে। আপাতত চারটি শয্যা দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে তৃতীয় লিঙ্গের রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী তা বাড়ানো হতে পারে। ব্লক হাসপাতালগুলিতে যদিও তা সম্ভব নয়। তবে আগামী দিনে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালেও করা যায় কিনা তা তারা চিন্তাভাবনা করে দেখব’।