সংক্রামিতদের দুয়ারে খাদ্যসামগ্রী হাতে জেলা শাসক

77

আলিপুরদুয়ার : তিনি জেলার শীর্ষ আধিকারিক। কেউ তাঁকে ওষুধের জন্য ফোন করছেন, কেউ খাদ্যসামগ্রী পেতে। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছেন তিনি। এমনকি সংক্রামিতের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা। যে কোনও প্রয়োজনের জন্য নিজের মোবাইল নম্বর বিলি করছেন তিনি।

শনিবারও এভাবে সংক্রামিতদের পাশে থেকেছেন তিনি। এদিন তাঁর সঙ্গে এসডিও, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং পুরসভার কর্মীরা পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে যান। ওই এলাকার করোনা সংক্রামিতদের বাড়িতে সামগ্রী তুলে দিয়েছেন। জেলায় কোভিড মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দিনরাত কাজ করে চলছেন জেলার শীর্ষ আধিকারিক। স্বাভাবিকভাবেই, জেলা শাসকের এমন উদ্যোগে খুশি জেলার বাসিন্দারা সহ প্রশাসনের অন্য কর্তারা।  পার্শ্ববর্তী কোচবিহার জেলায় যে সময় একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেসময় আলিপুরদুয়ার জেলায় অনেকটাই শান্তিতে ভোট হয়েছে। করোনা মোকাবিলাতেও অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

- Advertisement -

জেলা শাসক বেশিরভাগ সময় একাই গাড়ি করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন। চা বাগান থেকে বনবস্তি, ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা সহ আলিপুরদুয়ার পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সংক্রামিতের বাড়িতে। শনিবার আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকায় সংক্রামিত রোগীদের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহকুমা শাসক প্রিয়দর্শিনী ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুরসভার টিম। এদিন জেলা শাসক ও এসডিও সংক্রামিতদের বাড়িতে চাল, ডাল, তেল, সাবান, বেবিফুড, মাস্ক, স্যানিটাইজার সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট দূরে দাঁড়িয়ে সংক্রামিতদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলি জেনে নেন তাঁরা।  জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সংক্রামিতদের বাড়ি বাড়ি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিচ্ছি। কারও ওষুধ, খাবারের দরকার হলে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সংক্রামিতদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে।

পুরসভার এলাকার বাসিন্দা এক সংক্রামিত বলেন, যেদিন থেকে সংক্রামিত হয়েছি, তারপর থেকে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর আমার খোঁজ নিয়েছে। এদিন খোদ জেলা শাসক ও অন্য আধিকারিকরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বাড়ি চলে আসবেন তা কল্পনাও করিনি। প্রশাসনের উদ্যোগে আমি খুশি।