করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠকে জেলাশাসক

60

আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ হাজারের গণ্ডি পার করেছে। জেলায় অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ছুঁই ছুঁই। মৃত্যু হয়েছে ১৮৯ জনের। এমন পরিস্থিতিতে জেলার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে বুধবার জরুরি বৈঠক করেন জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব। তিনি আসানসোল শহর তথা জেলায় যারা অক্সিজেন সাপ্লাই করে, ওষুধ সহ চিকিৎসার অন্যান্য জিনিস দেয় তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলার সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমগুলিকেও চিকিৎসা ঠিক মতো চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘জেলায় অক্সিজেনের কোনও অভাব নেই। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

অন্যদিকে, আসানসোল পুরনিগম এলাকার করোনা আবহে যাতে সবকিছু ঠিক থাকে তারজন্য এদিন পুরভবনে পুর ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন পুর কমিশনার নীতিন সিঙ্গানিয়া। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, শ্মশানে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া মানুষের দেহ দাহ করার পরে সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। তারজন্য শ্মশানে পুর কর্মীরা থাকবেন। মৃত ব্যক্তির পরিবার একটা ফর্ম জমা করবেন৷ যদি দেখা যায়, পরিবারকে হয়রানি করা হয়েছে, তাহলে কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুর কমিশনার বলেন, ‘পুরনিগমের ১০৬টি ওয়ার্ডেই সাফাইয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। আসানসোল বাজার সহ পুর এলাকার জনবহুল এলাকায় নিয়মিত স্যানিটাইজেশন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে মাস্ক পড়েন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলেন, তার প্রচার করা হচ্ছে।’

- Advertisement -

বর্তমানে দুর্গাপুরের সনোকা হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সরকারিভাবে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দুর্গাপুরের আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালের ২০০ বেড সরকার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আসানসোল জেলা হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বেডের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে বলে পুর কমিশনার জানান। করোনা আক্রান্তদের জন্য জেলায় সরকারি উদ্যোগে ৯টি সেফ হোম করা হচ্ছে। সেগুলোতে বেড থাকবে সবমিলিয়ে ৪০০টি। ইতিমধ্যে ২টি সেফ হোম চালুও হয়েছে।