বৃষ্টিতে ভাঙল ডাইভারসন, ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

588

ফালাকাটা: সোমবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে জলের তোড়ে ভেঙে যায় ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা, বুড়িতোর্ষা ও সনজয় নদীর ডাইভারসন। এই তিনটি ডাইভারসন ভেঙে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান জল বইতে থাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই সড়কপথে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এই রাস্তায় তৈরি হচ্ছে চার লেনের মহাসড়ক। তাই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থারও ক্ষয়ক্ষতি প্রচুর হয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গ জোনের টেকনিক্যাল ম্যানেজার রাজীব কুমার বলেন, ‘পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। নির্মাণকারী সংস্থা জল কমলেই ওই ডাইভারসনগুলি মেরামত করে দেবে।’

- Advertisement -

২০১৭ সালের বন্যায় ফালাকাটার চরতোর্ষা কাঠের সেতু ভেঙে যায়। এই রাস্তায় চার লেনের মহাসড়ক তৈরি হচ্ছে। এনএইচএআই এজন্য আর বিকল্প কাঠের সেতু তৈরি করেনি। নদীতে হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি করা হয়। কিন্তু ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বর্ষায় বারবার এই ডাইভারসন ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হয়। তারপর ডাইভারসন সারাই করা হলেও বিকল্প সেতুর কাজ এখনও শুরু হয়নি। জলের তোড়ে বেহাল অবস্থায় থাকা ডাইভারসনটি এদিন ভেঙে যায়। এদিকে এই রাস্তায় রয়েছে বুড়িতোর্ষা ও সনজয় নদীর উপর দুটি দুর্বল কাঠের সেতু। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই দুটি সেতুর পাশেও হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি করে। ভারী যানবাহন এই দুটি ডাইভারসনের উপর দিয়েই চলাচল করে। এই ডাইভারসন দুটিও এদিন ভেঙে যায়। তিন ডাইভারসনের উপর দিয়ে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান জল বইতে থাকে। তাই সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ী ও কৃষকরা সমস্যায় পড়েন।

এদিন ফালাকাটার সাপ্তাহিক হাটবার ছিল। কিন্তু ডাইভারসন ভেঙে যাওয়ায় কালীপুর, বংশীধরপুর, শিশাগোড়ের বহু কৃষক এদিন পণ্য নিয়ে কিষান মাণ্ডিতে যেতে পারেননি। স্থানীয় কৃষক নরেশ সরকার বলেন, ‘জমি থেকে সবজি তুলেছি। কিন্তু চরতোর্ষা ডাইভারসন ভেঙে যাওয়ায় কিষাণ মাণ্ডিতে যেতে পারিনি। সবজি এখন নষ্ট হবে।’ আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নান্টু তালুকদার বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই ডাইভারসনগুলি ভেঙে যাওয়ায় ফালাকাটার ব্যবসায়ীরা এদিন আলিপুরদুয়ারে যেতে পারেননি। এখানকার ব্যবসায়ীদের শালকুমারহাট, শিলবাড়িহাটে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। কয়েক বছর থেকেই এই সমস্যা চলছে।’ দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে দূরপাল্লার যানবাহনগুলি সোনাপুর, পুণ্ডিবাড়ি, ঘোকসাডাঙ্গা, ফালাকাটা হয়ে অনেকটা ঘুরপথে চলাচল করেছে। বারবার চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ থাকায় এনএইচএআই-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ দাশগুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, ‘চরতোর্ষায় নতুন সেতু তৈরি হতে সময় লাগবে। এদিন চরতোর্ষা সহ তিনটি ডাইভারসন ভেঙে যায়। জল বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জল কমলেই ডাইভারসনগুলি সারাই করা হবে।’