ডাইভারসন ভেঙে বইছে জল, বেহাল কাঠের সেতু দিয়েই চলছে যানবাহন

221

ফালাকাটা: কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে ছোট-বড় নদীর জল বেড়েছে। শনিবার জলের তোড়ে ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়কের বুড়ি তোর্ষা নদীর ডাইভারসন ভেঙে যায়। এছাড়া পলাশবাড়ির সঞ্জয় নদীর ডাইভারসনের ওপর দিয়ে জল বইতে থাকে। ফলে দুই নদীতে থাকা বেহাল কাঠের সেতুর উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলচাল করছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প হিসেবে দুই সেতুর পাশে হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি করেছিল। কিন্তু বর্ষায় দুটি ডাইভারসনের ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারী যান চলাচল ও লাগাতার বর্ষণের ফলে কাঠের সেতুও ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি জল কমলেই ডাইভারসন দুটি দ্রুত সারাই করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ।

ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি নির্মীয়মাণ মহাসড়কের রোড ইনচার্জ পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, টানা বৃষ্টির জন্য নদীগুলির জলস্তর বেড়েছে। তাই জলের ধাক্কায় বুড়ি তোর্ষা ও সঞ্জয় নদীর ডাইভারসন দুটি ক্ষতি হয়েছে। মহাসড়কের কাজের ক্ষেত্রে নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের জন্য এই দুটি ডাউভারশন তৈরি করা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জল কমলেই ডাইভারসন সারাইয়ের কাজ শুরু হবে। তবে সাধারণ যানবাহন ও মানুষের চলাচলে যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য বর্ষার আগেই বুড়ি তোর্ষা ও সঞ্জয় কাঠের সেতু দুটি শক্তপোক্তভাবে সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

কয়েক বছর ধরে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় চার লেনের মহাসড়কের কাজ চলছে। এই রাস্তার কাজ শুরুর আগেই ২০১৭ সালের বন্যায় ফালাকাটার চরতোর্ষা কাঠের সেতু ভেঙে যায়। পরে আর এই সেতু তৈরি হয়নি। ভাঙা সেতুর পাশে হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি করা হয়। এবার এখনও চরততোর্ষা ডাইভারসনের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে এই রাস্তায় রয়েছে আরও কয়েকটি কাঠের সেতু। মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে শুরু করলেও পাকা সেতুগুলির কাজ এখনও অনেকটা বাকি। এরমধ্যে বুড়িতোর্ষা ও সঞ্জয় নদীর বেহাল কাঠের সেতুর পাশে ভারী যান চলাচলের জন্যও হিউম পাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি করে সড়ক কর্তৃপক্ষ। এতদিন রাস্তার কাজের নির্মাণ সামগ্রী ও ব্যবসায়ীদের পণ্য সামগ্রী পরিবহণকারী ভারী যানবাহনগুলি এই ডাইভারসনের উপর দিয়ে চলাচল করছিল। কিন্তু এদিন বুড়িতোর্ষার ডাইভারসন ভেঙে যায়। আর সঞ্জয় নদীর ডাইভারসনের উপর দিয়ে হাঁটু সমান জল বইতে থাকে। তাই ভারী যানবাহনগুলি এখন বেহাল কাঠের সেতুর উপর দিয়েই চলাচল করছে। এই কারণেই দুটি কাঠের সেতুরও ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

শিলবাড়িহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নিখিল পোদ্দার জানান, বিপজ্জনকভাবে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করছে। ডাইভারসন দুটির ক্ষতি হওয়ায় বেহাল কাঠের সেতুতে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে চরম ক্ষতি হবে ব্যবসায়ীদের। এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও।