জাতীয় সড়কে থার্মোকলের ভেলায় ডাইভারশন পারাপার

668

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: লাগাতার বৃষ্টিতে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা ডাইভারশনের একাংশ ভেঙে গিয়েছে। অ্যাপ্রোচ রাস্তা ভেঙে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিপজ্জনকভাবে বুক সমান জলের উপর দিয়ে থার্মোকলের ভেলায় মানুষ পারাপার হন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনকভাবে এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোটর বাইক ও সাইকেল পারাপার হওয়ায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও ফালাকাটা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন যুবক টাকার বিনিময়ে এদিন এই কাজ করেন। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে অবশ্য ফালাকাটা থানার পুলিশ পৌঁছে ডাইভারশনের উপর দিয়ে এভাবে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। জল আরও কিছুটা কমলেই ডাইভারশন সংস্কার করা হবে বলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

- Advertisement -

গত রবিবার রাতে প্রবল বৃষ্টিতে জলে ডুবে যায় চরতোর্ষা ডাইভারশন। সোমবার থেকে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার। এদিনও যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী কোনও যানবাহন চলাচল করেনি। এদিকে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলের তোড়ে ডাইভারশনের একাংশ ভেঙে যায়। অ্যাপ্রোচ রাস্তা ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেখান দিয়ে বইছে বুক সমান জল। এই পরিস্থিতিতে নদী থেকে বালি, পাথর তোলার দুটি থার্মোকলের ভেলা দিয়ে মানুষ পারাপার শুরু করে। সকাল থেকেই এভাবে পারাপার চলতে থাকে। অভিযোগ, এজন্য জনপ্রতি ১০ টাকা, সাইকেল ২০ টাকা ও মোটর বাইক ৪০ টাকা করে নেওয়া হয়। বিশেষ প্রয়োজনের তাগিদে মানুষও টাকার বিনিময়ে পারাপার হন। তবে এজন্য ডাইভারশনে এদিন ব্যাপক ভিড় হয়। থার্মোকলের ভেলায় ঠাসাঠাসি করে ৩০-৪০ জন করে পার হন। এভাবে একটি দুর্ঘটনাও ঘটে। সকালের দিকে এক সাইকেল আরোহী জলে পড়ে যায়। এই নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। কালীপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিষ্ণুপদ সরকার বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পার হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই।’ আরেক বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অমিতাভ রায় বলেন, ‘স্কুলে কাজ থাকায় ঝুঁকির মধ্যেই থার্মোকলের ভেলায় মোটর বাইক নিয়ে পার হই। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে। তিন বছর থেকে ভোগান্তি চলছে।’

২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায় চরতোর্ষা কাঠের সেতু। তারপর থেকেই তিন বছর ধরে বেহাল ডাইভারশনের কারণে ভোগান্তি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। এই রাস্তায় তৈরি হচ্ছে ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর বা চার লেনের মহাসড়ক। অভিযোগ, সড়ক কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও নতুন সেতু তৈরি করেনি। এদিনের পরিস্থিতি নিয়ে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, ‘বিপজ্জনকভাবে মানুষের এই পারাপারের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দেখা উচিত। জল কমলেই আমাদের তরফে দ্রুত চরতোর্ষা ডাইভারসন সারাই করা হবে।’ ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘বিপজ্জনকভাবে মানুষ পারাপার বন্ধ করার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।’ পরে অবশ্য এদিন ফালাকাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে থার্মোকলের ভেলায় মানুষ পারাপার বন্ধ করে দেয়।