চরতোর্ষা ডাইভারশনের জন্য কোটি টাকার ক্ষতি ব্যবসায়

401

ফালাকাটা, ২৪ জুলাই : ৩১ ডি জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা ডাইভারশন জলের ধাক্কায় বারবার ভেঙে যাওয়ায় আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা, শিলবাড়িহাট, শালকুমারহাট, সোনাপুর, বাবুরহাট, আলিপুরদুয়ার শহর সহ বিভিন্ন হাট বাজারে ব্যবসায়ীরা বড়ো ক্ষতির মুখে পড়ছেন। চলতি বর্ষায় এখনও পর্যন্ত তিনবার এই ডাইভারশনের কারণে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ারের মধ্যে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। এজন্য ইতিমধ্যে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে।

গত ২৬ জুন ও ১৪ জুলাইয়ের পর রবিবারের প্রবল বৃষ্টিতে ফের জলের ধাক্কায় ভেঙে গিয়েছে চরতোর্ষা ডাইভারশন। তাই সোমবার থেকে এই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পলাশবাড়ির শিলবাড়িহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘এই তিনবারে প্রচুর সাপ্তাহিক হাট নষ্ট হয়েছে। বাইরের পাইকারদের অনেকে হাটে আসাই বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেক খুচরো ব্যবসায়ীও আসতে পারছেন না।’ এজন্য এই হাটেই প্রায় ২৫-৩০ লক্ষ টাকার ব্যবসা মার খেয়েছে।’ জেলা পরিষদের শালকুমারহাটেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তিন দফায় প্রায় ৫-৬টি হাট এখানে মার খেয়েছে। তাতে সব মিলে এই হাটেও ২৫-৩০ লক্ষ টাকার ব্যবসা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান শালকুমারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সঞ্জীব রায় প্রধান। গত ২৬ জুন জলের ধাক্কায় ডাইভারশন ভেঙ্গে যাওয়ায় চারদিন, ১৪ জুলাই একই ভাবে চারদিন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। এবারও দুদিন থেকে যান চলাচল বন্ধ। তাই বড়ো হাটগুলির মতো ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের শিশাগোড়,সোনাপুর,বাবুরহাটের মতো ছোটো হাট বাজারেও সব মিলে ৪০ লক্ষ টাকার ব্যবসা মার খেয়েছে বলে ছোটো হাটগুলির ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে। ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নান্টু তালুকদার বলেন, ‘ফালাকাটায় মহজনদের কাছে বিভিন্ন এলাকার ছোটো ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না।’

- Advertisement -

এনএইচএআই-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, ‘বর্ষা শেষ না হলে বিকল্প কিছুই করা যাচ্ছে না। এদিন থেকে জল কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ওই ডাইভারশন সংস্কারের কাজ করা হবে।’

ছবি: চরতোর্ষা ডাইভারশন দিয়ে এভাবেই মানুষ চাতায়াত করছেন। –সুভাষ বর্মন