কালভার্ট ভেঙে বিচ্ছিন্ন দশ হাজার মানুষ

454

তুফানগঞ্জ: কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলের তোড়ে তুফানগঞ্জ পালপাড়ায় ভেঙ্গে গেল কালভার্টের ডাইভারশন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সমস্যায় পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের অন্দরানফুলবারি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দরিয়াবলাই পালপাড়া থেকে নতুন বাজার ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার নতুন বাজার সংলগ্ন কালভার্টের ডাইভারশনের ৩০-৪০ ফুট ভেঙ্গে গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। ফলে পশ্চিম অন্দরানফুলবাড়ি, খোড়ারপাড়, ঘোগারকুঠি, নতুন বাজার, চিলাখানা, দেওচড়াই এলাকার সঙ্গে পালপাড়া দরিয়াবলাই এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ধলপল ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাটরামপুর, বিলসি, অন্দরানফুলবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দত্তপাড়া, অন্দরানফুলবাড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার বৃষ্টির জল ওই কালভার্ট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গদাধর নদীর সানফোলা এলাকায় গিয়ে পড়ত। কিন্তু অতিরিক্ত জলের চাপের কালভার্টের ডাইভারশন ৩০-৪০ ফুট ভেঙ্গে জল প্রবাহিত হতে থাকে। কালভার্ট সংলগ্ন বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি ভেঙ্গে যায়।

- Advertisement -

কালভার্টের ডাইভারশন ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে পালপাড়ার ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রীদের ঘুরপথে তুফানগঞ্জ হয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে ঘোগারকুটি, নতুন বাজার, চিলাখানা, দেওচড়াই ইত্যাদি জায়গায় যেতে হচ্ছে। এতে ছয়-সাত কিলোমিটার রাস্তা বেশি ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। একইভাবে চিলাখানা, দেওচড়াই, নতুন বাজার, ঘোগারকুটি এলাকার ব্যবসায়ীরা সহজেই তুফানগঞ্জ কালীবাড়ি আরএমসি মার্কেটে গরুহাঁটিতে গরু বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এখন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সকলেই দ্রুত ভেঙে যাওয়া রাস্তাটি মেরামতের দাবি তুলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ মজুমদার বলেন, তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিক্ষিপ্ত এলাকার বৃষ্টির জল এই কালভার্ট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রথমে গদাধর নদী, তারপর রায়ডাক নদীতে গিয়ে পড়ে। অতিরিক্ত জলের চাপ নিতে না পেরেই কালভার্টের ডাইভারশনের প্রায় ৪০ ফুট ভেঙে গভীর গর্ত হয়ে যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন দেড় হাজারের মতো লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। এখন সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তড়িঘড়ি এই ভেঙে যাওয়া কালভার্টের ডাইভারশনটি মেরামত করা দরকার। দশম শ্রেণীর ছাত্রী রূপসা বর্মণ বলেন, এই রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় ঘুরপথে টিউশনি যেতে হবে। তাই খুব শীঘ্রই ভেঙে যাওয়া রাস্তাটি মেরামত করা দরকার।

অন্দরানফুলবাড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধরনী কান্ত বর্মণ বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি জলের তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী সহ প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। এখন বিকল্প পথে অনেকটাই ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। খুব তাড়াতাড়ি যাতে ভেঙে যাওয়া অংশটি মেরামত করা যায় এ ব্যপারে বিডিওর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আশাকরি খুব শীঘ্রই সমস্যা সমাধান করা যাবে।