অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অটুট জকোভিচের সাম্রাজ্য

মেলবোর্ন : ৭,৪২৬ জন। সরকারি হিসেবে এটাই রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালের দর্শকসংখ্যা।

ফাইনালে খেলা যতক্ষণ গড়াল ততক্ষণ সাত হাজারির গ্যালারিতে শোনা গেল একটাই রব নো-লে, নো-লে। আদপে যা নোভাক জকোভিচের ডাকনাম। ঘরের ছেলের জন্য এর চেয়ে আর ভালো কি বা অভ্যর্থনা হতে পারে! কথা রাখলেন জোকারও। বিজয়ীর ট্রফি হাতে সহাস্যেই তাই সার্ব তারকার ঘোষণা, দ্য লাভ অ্যাফেয়ার কিপস গোয়িং।

- Advertisement -

মেলবোর্ন পার্ক আর সার্ব তারকার ভালোবাসার দীর্ঘায়ু কামনা করতে বাধ্য টেনিসদেবতাও। রড লেভার এরিনায় কার্যত একপেশে লড়াইয়ে ৭-৫, ৬-২, ৬-২ সেটে মেদভেদেভকে হারিয়ে নিজের নবম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয় করলেন জকোভিচ। সময় লাগল মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট। বুঝিয়ে দিলেন কেন রাফা-রজার টেনিস সাম্রাজ্যে সমোচ্চারে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। বুঝলেন বছর পঁচিশের ড্যানিল মেদভেদেভও।

টানা ২০টি ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে নেমেছিলেন রাশিয়ান। শুধু তাই নয়, জকোভিচের বিরুদ্ধে শেষ চারটি সাক্ষাতের তিনটিতে বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন মেদভেদেভ। ফাইনালের আগে জকোভিচের উদ্দেশে তাঁর হুংকার ছিল, ফাইনালে চাপে থাকবে জোকার।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় না গিয়ে শান্ত গলায় সার্ব তারকা বলেছিলেন, তাদের পর্যায়ে পৌঁছোতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও অনেকটা পথ হাঁটতে হবে। সেই তফাতটা রবিবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন টানা তিনবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ী জকোভিচ।

জোকার-ঝড়ে নাস্তানাবুঁদ হয়ে একসময়ে মেজাজের রাশ হালকা হল মেদভেদেভের। দ্বিতীয় সেটে পিছিয়ে পড়ে আছড়ে ভাঙলেন র্যাকেট। শেষে হাল ছেড়ে দেওয়া নাবিকের মতো নাবিকের মতো নিজের কোচিং টিমের উদ্দেশে বলে বসলেন, আমি আর কী করতে পারি! ম্যাচের পরেও সেই ঘোর থেকে বেরোতে পারছিলেন না বিশ্বের চার নম্বর তারকা। তাঁর কথায়, ম্যাচ এমন হোক, চাইনি। সঙ্গে সংযোজন, গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল থেকে খালি হাতে ফেরার যন্ত্রণা বলে বোঝাতে পারব না। লক্ষ্য থাকবে আরও নিখুঁত ফেরত আসার।

আর জকোভিচ? ট্রফি হাতে তাঁর উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল ১৮তম নয়, জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন বুঝি। তার মাঝেই কৃতজ্ঞতা জানালেন সেকেন্ড হোম মেলবোর্ন পার্কের দর্শক-সমর্থকদের উদ্দেশে। সঙ্গে প্রতিপক্ষ মেদভেদেভের লড়াইকে তাঁর কুর্নিশ, জীবনের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেললাম।

রেকর্ড সংখ্যক অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের সঙ্গে নাদাল-ফেডেরারের সঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শৃঙ্গ জয়ের দৌড়েও ফিরলেন জকোভিচ। রাফা-রজার থেকে দুধাপ পিছিয়ে সার্ব তারকা (১৮)। সঙ্গে টানা ৩১১ সপ্তাহ একনম্বর স্থান ধরে রেখে ছাপিয়ে গেলেন ফেডেরারের ৩১০ সপ্তাহ শীর্ষস্থানে থাকার নজিরকেও।

সবমিলিয়ে ম্যাজেস্টিক মেলবোর্নে জকোভিচ যেন অন্যগ্রহের বাসিন্দা।