ধস পেরিয়ে দুর্গম বক্সা পাহাড়ের আদমায় ডিএম

84

আলিপুরদুয়ার : কোথাও চড়াই, কোথাও উতরাই। কোথাও আবার ধস নেমে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এলাকা। মাঝে পাহাড়ি খরস্রোতা নদী। দুর্গম এই পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বক্সা পাহাড়ের আদমা গ্রামে পৌঁছালেন আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা। আলিপুরদুয়ার জেলার সবচেয়ে প্রত্যন্ত আদমা গ্রামে ভ্যাকসিন দিতে যান জেলা শাসক। তাঁর সঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন আধিকারিক, কালচিনি ব্লক প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম ছিল। পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মাস্ক ও স্যানিটাইজারও বিতরণ করেন জেলা শাসক। সুরেন্দ্রকুমার মিনা বলেন, বক্সা পাহাড়ের আদমা গ্রাম, জেলার সবচেয়ে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকা। এখান থেকে সাধারণ মানুষকে টিকা নিতে হলে অনেক কষ্ট করতে হত। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আদমাতেই বাসিন্দাদের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হবে। এদিন প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ট্রেক করে আদমায় যাই। সেখানে সব বাসিন্দাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এছাড়াও গ্রামের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে।

আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে জেলায় ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হয়েছে। ওই সময় কোভিড যোদ্ধাদের টিকা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের টিকা দেওয়া শুরু করা হয়। এর মধ্যে জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনার উদ্যোগে দুয়ারে ভ্যাকসিন, বাগানে ভ্যাকসিন কর্মসূচিও শুরু হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও ভ্যাকসিনের স্লট বুকিং করা যাচ্ছে।

- Advertisement -

টিকাকরণে আলিপুরদুয়ার রাজ্যে নজির গড়েছে। এর মধ্যেই জেলা শাসক সিদ্ধান্ত নেন, বক্সা পাহাড়ের ১৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের টিকা দেওয়া হবে। এর জন্য বাসিন্দাদের পাহাড়ি পথ পেরিয়ে কোথাও যেতে হবে না। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম একেবারে তাঁদের ঘরে গিয়ে টিকাকরণের ব্যবস্থা করবে।

যেমন ভাবনা, তেমনি কাজ! ভোর চারটায় বক্সা পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা দেন জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এডিএম সুমন বাগদাস, কালচিনির বিডিও প্রশান্ত বর্মন সহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম। এদিন আলিপুরদুয়ার শহর থেকে জেলা শাসক এবং আধিকারিকরা গাড়িতে করে বক্সা পাহাড়ের ভিউ পয়েন্ট পর্যন্ত যান। সেখান থেকে ট্রেক শুরু করেন। প্রথমে ছয় কিলোমিটার ট্রেক করে বক্সা ফোর্টে পৌঁছান তাঁরা। পাহাড়ের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন জেলা শাসক ও তাঁর সঙ্গীরা। জেলা শাসক যাওয়ার পরই স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম গ্রামবাসীদের মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফিকেটও তুলে দেওয়া হয়।

এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ববি লামা বলেন, বক্সা পাহাড়ের মতো দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও যে টিকা পাবে তা আমরা কোনওদিন ভাবতে পারিনি। জেলা শাসক ও বিডিও যে উদ্যোগ নিয়ে একেবারে গ্রামে হাজির হয়েছেন সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। টিকাকরণের পাশাপাশি গ্রামের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন জেলা শাসক। গ্রামবাসীদের সমস্যা, দাবি নিয়ে কথা বলেন তিনি। জেলা শাসক বলেন, বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রামে ছোট কালভার্ট, আইসিডিএস সেন্টার, কমিউনিটি হল তৈরি করা হবে। এছাড়াও রাস্তা, পানীয় জল নিয়ে কাজ করা হবে।