ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : ডিউটি চলাকালীন হঠাৎ কোনও পুলিশকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা কোনও গণ্ডগোলে কেউ আহত হলে চিকিৎসার জন্য ছুটে যান এসডিপিওর কাছে। এসডিপিও অসুস্থ পুলিশকর্মীদের শারীরিক অবস্থা দেখে ওষুধও লিখে দেন। আলিপুরদুয়ার পুলিশলাইনে চিকিৎসক এসডিপিও পেয়ে স্বভাবতই খুশি পুলিশকর্মীরা।

এসডিপিও ডাঃ হোসেন মেহেদি রহমান (৩০) বেঙ্গল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার জেলা সদরের এসডিপিওর দায়িত্বে আছেন ডাঃ হোসেন মেহেদি রহমান। তবে পুলিশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এমবিবিএস ও পরে এমডি কোর্সও করেছেন। কিন্তু ডাক্তার নয়, স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়া। তাই ডাক্তারি পড়ার ফাঁকেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে বাজিমাত করেছেন। আইপিএস ডাঃ হোসেন মেহেদি রহমানের বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানার ডালিমগাঁও গ্রামে। তাঁর বাবা মজিবর রহমান প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক, মা হোসনিয়ারা বেগম গৃহবধূ। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে ডাঃ হোসেন মেহেদি রহমান সবচেয়ে ছোট। তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় কালিম্পংয়ের একটি বোর্ডিং স্কুলে, তারপর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারি নিয়ে ভর্তি হন। ২০১৩ সালে সেখান থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ২০১৪ সালে লখনউ কেজিএমইউ থেকে কমিউনিটি মেডিসিনের উপর এমডি করেন।

- Advertisement -

চিকিৎসক হিসেবে পড়াশোনা করার ফাঁকেই সিভিল সার্ভিসের জন্য পরীক্ষা দেন তিনি। তারপর প্রথম পরীক্ষাতেই বাজিমাত। ২০১৫ সালে ইউনিয়ন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আইপিএস অফিসারের ট্রেনিংয়ে যোগ দেন। হায়দরাবাদে ট্রেনিংয়ে পর ব্যারাকপুরে প্রবেশনাল পিরিয়ড শুরু হয়। তারপর বাঁকুড়ায় প্রথম পোস্টিং। এরপর ২০১৯ সালের ২০ অগাস্ট আলিপুরদুয়ার সদরের এসডিপিও হিসেবে কাজে যোগ দেন ডাঃ হোসেন মেহেদি রহমান। তিনি এসডিপিও হিসেবে কাজে যোগদানের পরেই পুলিশ মহলে ডাক্তার আইপিএস হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। তিনি বলেন, স্কুলজীবনে ভালো ছাত্র ছিলাম। পরিবারের ইচ্ছায় এমডি করি। তবে আমার স্বপ্ন ছিল সিভিল সার্ভিস। ওই পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে এখন আলিপুরদুয়ারে এসডিপিও হিসেবে আমি কর্মরত। চিকিৎসার বিষয়গুলি জানি, তাই হঠাৎ কোনও পুলিশকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের ওষুধ লিখে দিই। ডাক্তারি করা মানে যেমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া, তেমনই পুলিশের চাকরিতেও মানুষের সঙ্গেই থাকতে হয়।

এসডিপিও অফিসে কর্মরত এএসআই শাবিদুল হক বলেন, ডিউটি চলাকালীন কেউ কখনও অসুস্থ হলে এসডিপিও ওষুধ লিখে দেন। আমরা চিকিৎসক এসডিপিও পেয়ে সত্যি উপকৃত হচ্ছি। এসডিপিও জানান, আগামীদিনে আলিপুরদুয়ারের ছেলেমেয়েদের জন্য তাঁর একটি ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করার ইচ্ছা রয়েছে। ডব্লিউবিসিএস, আইএএস, আইপিএস-এর মতো বড় পরীক্ষাগুলিতে যাতে জেলার প্রার্থীরাও সাফল্য পান, তার জন্য উদ্যোগী হবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।