১০ মাস চিকিৎসার পর টিকা আসায় খুশি বিপাশা

276

কলকাতা : টানা ২৪ বছর ঢাকুরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রয়েছেন ডাক্তার বিপাশা শেঠ। যমের মুখ থেকে রোগীকে ছিনিয়ে নিয়ে আসাই তাঁর এত বছরের ধ্যান, জ্ঞান কর্ম। বার্ড ফ্লু দেখেছেন, দেখেছেন সার্সও। কিন্তু কোভিড-১৯-এর মতো মারাত্মক রোগ কোনওদিন দেখেননি। ১০ মাস সেই ধরনের সংক্রামিত রোগীদের দিনরাত চিকিৎসার পরে শনিবার পুরস্কার হিসেবে পেলেন সুরক্ষাকবচ। তাঁদের বেসরকারি হাসপাতালেই কোভিশিল্ড টিকাদানের কেন্দ্র হয়েছে। সেখানেই প্রথম টিকাটি পেয়ে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন ডাক্তার শেঠ। এদিন সারা রাজ্যে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও টিকাদান কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঢাকুরিয়ার ওই বেসরকারি হাসপাতালের কেন্দ্রেও এদিন সকাল থেকে টিকাদান শুরু হয়। ৫ জনের এক-একটি দল করে আধঘণ্টা অন্তর মোট ১০০ জনকে সেখানে টিকা দেওয়া হয়।

ডাক্তার শেঠ বলেন, গত ১০ মাস ধরে এই রোগের ভয়াবহতা দেখেছি। আর কোনও রোগে এভাবে কমবয়সি লোকেদের এত মরতে দেখিনি। প্রথমদিকে আমরা বুঝতেই পারিনি এই রোগের চিকিৎসা কীভাবে করা যায়। যত দিন গিয়েছে, চিকিৎসা পদ্ধতির গাইডলাইনও বারে বারে বদলেছে। কারও ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অক্সিজেন দিয়ে কাজ হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে ভেন্টিলেশনে দিয়ে রোগীকে বাঁচাতে পারিনি। বহু মানুষকে যেমন সুস্থ করে বাড়িতে পাঠাতে পেরেছি, তেমনই অনেক লড়াইয়ে হেরেও গিয়েছি। তবে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কখনোই উদ্বিগ্ন হইনি। ডিউটির চাপ সামলে সপ্তাহে দিন তিনেক বাড়ি গিয়েছি। সেখানে আমার স্বামী ও মেয়ে রয়েছেন। তাঁরা দুজনেই ডাক্তার। তবে কোভিড চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নয়। বাড়ি ফিরে যথারীতি সতর্কতাবিধি অবলম্বন করতাম। এতদিনে করোনার প্রতিষেধক টিকা এসেছে। আমি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, এর ফলে আরও অনেক প্রাণ বেঁচে যাবে এটাই আনন্দের।

- Advertisement -

তাহলে কি এই টিকা নিলে করোনা হবে না? ডাক্তার শেঠ বলেন, এটা ভুল ধারণা। টিকা নিলেও করোনা হতেই পারে। কিন্তু তার মারণ ক্ষমতা সেভাবে থাকবে না। এই রোগের মারণক্ষমতা প্রচণ্ড। ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা করতে গিয়ে তা নিজের চোখে দেখেছি। চিকিত্সা করার পাশাপাশি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতাম সব রোগী যেন সেরে ওঠেন। এদিন পৌনে ১১টা নাগাদ টিকা নিয়েছেন ডাক্তার শেঠ। তারপর বেশ কিছুক্ষণ তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে কাজপাগল মানুষটি টিকা নিয়ে বাড়ি চলে যাননি। সঙ্গে সঙ্গেই রোগীদের সেবায় লেগে পড়েছেন। ওয়ার্ডে টহলদারি সেরে শিয়ালদার বাড়িতে যখন ফিরবেন, তখন গভীর রাত।