আলিপুরদুয়ার, ২৬ মেঃ নাবালিকার মাথায় গেঁথে রয়েছে প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা পেরেক। যন্ত্রণায় কার্যত জ্ঞান হারিয়েছে মেয়েটি। এই পরিস্থিতিতে জটিল ক্র্যানিওটমি অপারেশন করে ওই নাবালিকার প্রাণ বাঁচাল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল। কোনো পরিকাঠামো ও নিউরোসার্জন ছাড়াই ওই অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের চিকিত্সক পবিত্র রায়। এই ধরণের অস্ত্রোপচার করে রাজ্যে নজির গড়ল আলিপুরদুয়ার হাসপাতাল।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালে ভরতি করা হয় শামুকতলার তুরতুরিখণ্ডের বাসিন্দা বছর বারোর মারিয়ানি মুন্ডাকে। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রতিবেশি এক ব্যক্তি মারিয়ানিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কিছু দিয়ে আঘাত করে মাথায় পেরেক ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু মস্তিষ্ক থেকে পেরেক বের করার জন্য যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তা জেলা হাসপাতালে ছিল না। কিন্তু চিকিত্সকরা রেফার করতেও ভয় পাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্র্যানিওটমির সাহায্যে পেরেক বের করার জন্য এগিয়ে আসেন হাসপাতালের সার্জন পবিত্র রায়। পবিত্রবাবু জানিয়েছেন, ক্র্যানিওটমির সাহায্যে মস্তিষ্কের হাড়ের অংশ বাইরে বার করে এনে ভিতরের ক্ষত সারানো হয়। ফের সেই হাড় পুনস্থাপন করা হয়। এই ভাবেই পেরেকটা বার করা হয়েছে মেয়েটির মাথা থেকে। তিনি জানান, দক্ষ নিউরোসার্জন ছাড়া ক্র্যানিওটমি করা যথেষ্টই ঝুঁকির কাজ। সাধারণত মস্তিষ্কের টিউমার, মাথা থেকে গুলি বার করতে ক্র্যানিওটমি করেন চিকিৎসকরা। মারিয়ানি এখন বিপদ্মুক্ত বলে জানিয়েছেন পবিত্রবাবু। তবে তাকে এখনও আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ চিন্ময় বর্মন বলেন, ‘মস্তিষ্ক থেকে পেরেক বের করা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কিন্তু মেয়েটির পরিবারের অনুরোধে পবিত্রবাবু এই অপারেশন করতে রাজি হন। মেয়েটির মাথা থেকে প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা একটি পেরেক বের করা হয়েছে। আপাতত মেয়েটিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। সুস্থ হলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, মারিয়ানির বাবা জেমস মুন্ডা বলেন, ‘আমার মেয়ে শনিবার খেলছিল। রন্থু খড়িয়া নামে ওই প্রতিবেশি মেয়েকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে পেরেক ঢুকিয়ে দেয়।’ শামুকতলা থানার ওসি বিরাজ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেন ওই ঘটনা ঘটাল, তার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।