মানবিকতার নজির, রক্ত দিয়ে প্রসূতির জীবন বাঁচালেন চিকিৎসক

175

বর্ধমান: প্রসূতির জীবন বাঁচাতে রক্ত দিলেন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। গড়লেন মানবিকতার নজির। চিকিৎসকের এমন মহানুভবতার তারিফ না করে পারেননি প্রসূতি মধুমিতা হাজরার পরিবারের সদস্যরাও। সকলেই সুদীপ্তবাবুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৯ বছরের মধুমিতা হাজরার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার সালার থানার পুরানো গ্রামে। শুক্রবার সকাল থেকেই তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয় তাঁর। বেদনা বাড়তে থাকায় ওইদিন রাতেই পরিবারের লোকজন তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন হাসপাতালে ডিউটি করছিলেন ডাঃ সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতির অপারেশন করা হয়। তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু প্রসূতির অবস্থা সংকটজনক হয়ে পড়ে। চিকিৎসক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সন্তান প্রসবের পর প্রসূতির শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অপারেশন করতে হয়।

- Advertisement -

অপারেশনের পর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এই অবস্থায় প্রসূতিকে বাঁচাতে কমপক্ষে তিন ইউনিট রক্ত প্রয়োজন হয়। প্রসূতির রক্তের গ্রুপ ‘এ’ পজিটিভ। কিন্তু সেই সময় কাটোয়া হাসপাতালের ব্লাডব্যাংকে ওই গ্রুপের রক্ত মাত্র ২ ইউনিট মজুত ছিল। ওই রক্ত প্রসূতির শরীরে দেওয়া হয়। কিন্তু বাকি এক ইউনিট রক্ত আর মিলছে না দেখে প্রসূতির পরিবার সহ হাসপাতালের সকলে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন হাসপাতালের চিকিৎসক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। প্রসূতির জীবন বাঁচাতে তিনি নিজে রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন। তাঁর দেওয়া রক্তেই অবশেষে প্রাণে বাঁচেন প্রসূতি মধুমিতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রসূতি ও নবজাতক দুইজনের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল।

আত্মীয়রা জানান, ডাঃ সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের জন্যই মধুমিতা জীবন ফিরে পেয়েছেন। এজন্য ডাক্তারবাবুর কাছে তাঁরা কৃতজ্ঞ।