ব্লক থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মী

প্রকাশ মিশ্র, মালদা : কোভিড হাসপাতালের জন্য ব্লক থেকে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের তুলে আনা হচ্ছে পুরাতন মালদায়। মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও এভাবে ব্লক থেকে ডাক্তার তুলে নেওয়া হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির ত্রাস চলছে। এই সময়কালে একমাত্র ভরসা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এমনিতেই কম। মহামারির সময়কালে এত কম চিকিৎসকই গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভরসা। মানিকচকের কংগ্রেস বিধায়ক মোত্তাকিন আলমের অভিযোগ, গ্রামীণ মানুষের ভরসার জায়গাকে বঞ্চিত করে চিকিৎসক ও স্টাফ নার্সদের একাংশকে তুলে আনা হচ্ছে পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতলে। অথচ এব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। তাঁদের দিয়ে কোভিড হাসপাতালে ডিউটি করানো হচ্ছে না। বেশিরভাগ চিকিৎসক বহাল তবিয়তে জেলার বাইরে বাড়িতে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা সিপিএম নেতা দেবজ্যোতি সিনহাও।

- Advertisement -

যদিও এ বিষয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী বলেন, ব্লকগুলি থেকে চিকিৎসক না নিলে পাব কোথায়? কোভিড হাসপাতালের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রত্যেক ব্লকের হাসপাতাল থেকে একজন করে চিকিৎসক নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতলে পর্যায়ক্রমে কাজ করবেন। এছাড়া আমাদের কোনও উপায় নেই। আর মেডিকেল কলেজের বিষয়টি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। গ্রামীণ চিকিৎসক ও নার্সদের একাংশকে কোভিডের জন্য তুলে নেওয়ার যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এ ব্যাপারে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টি দেখার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি।

সিএমওএইচ-এর জারি করা নির্দেশিকায় (সিএমওএইচ/ পিএইচ ১৯৪, তাং ২৫/০৪/২০২০) দেখা য়াচ্ছে যে, ইংরেজবাজার বাদে ১৪টি ব্লক হাসপাতাল থেকে একজন করে চিকিৎসক এবং স্টাফ নার্স অস্থাযী ভিত্তিতে কোভিড হাসপাতালের জন্য জন্য তুলে নেওয়া হচ্ছে। মোত্তাকিন আলমের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন ব্লকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কোভিড হাসপাতালে কাজ করার মতো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এঁদের নেই। তাই এঁদের তুলে নিয়ে গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সমস্যায় পড়বে। তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিকাঠামো সত্ত্বেও মালদার কোভিড হাসপাতলে না রেখে করোনা পজিটিভ রোগীদের কেন শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতলে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন দানা বাঁধছে।

এদিকে, এই মহামারির সময়ে মেডিকেল কলেজের বহু চিকিৎসক গরহাজির থাকছেন। এমনিতেই কলকাতার চিকিৎসকদের ডিউটিতে কম আসার অভিযোগ বারেবারে ওঠে। তাঁদের কেন কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে না, এই প্রসঙ্গে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, কোভিড হাসপাতালের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ চিকিৎসক ডিউটিতে আসছেন না বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঠিক নয়। তাঁরা পর্যায়ক্রমে ডিউটিতে আসছেন। কাজ করে তাঁরা চলে যাচ্ছেন।

অধ্যক্ষ একথা বললেও রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের সরকারি এক নির্দেশনামা ভিন্ন কথা বলছে। যা অধ্যক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে পরস্পরবিরোধী। দেবজ্যোতি সিনহা পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশনামার (নং ১০৯ তাং ২৯/০৪/২০২০) উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, পরিবহণ দপ্তরের সচিব এক নির্দেশনামা জারি করেছেন। তাতে সব জেলার জেলা শাসকদের জানানো হয়েছে, যেসব চিকিৎসক বাইরে আটকে আছেন, আসতে পারছেন না, তাঁদের জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই চিঠি এটাই প্রমাণ করে যে রাজ্যের অন্য অংশের মতো মালদার অনেক চিকিৎসক তাঁদের কাজের জায়গায় এখনও ফিরে আসেননি। তাঁদের ফেরাতেই রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা।