করোনামুক্ত হয়ে জয়ের লক্ষ্যে লড়াইয়ে চিকিৎসকরা

328
ফাইল ছবি

কলকাতা : সত্যিকারের যোদ্ধা ওঁরাই। সহকর্মী ৩৭ জনকে হারিয়ে কর্তব্যে অবিচল। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথমসারির যোদ্ধা ছিলেন ওই ৩৭ জন চিকিৎসক। আরও কয়েকশো স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রামিত হলেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সংক্রমণ মোকাবিলায়। ওঁদের এখন স্লোগান, একদিন সূর্যের ভোর আসবে…। করোনামুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আবার কাজে যোগ দিচ্ছেন। এসএসকেএম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ৬৪ বছর বয়সি মাখনলাল সাহা ১৪ দিন হাসপাতালে ছিলেন। ৭ দিনই কেটেছিল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে। সম্প্রতি আবার হাসপাতালের কাজে ফিরেছেন। তিনি বলেন, ভর্তি থাকাকালীন কোনও নেগেটিভ চিন্তাকে প্রশ্রয় দিইনি। নিজেকে বারবার বলতাম, দ্রুত সেরে উঠে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিতে হবে। মাখনলাল সাহা গত জুন মাসে সংক্রামিত হয়ে ছিলেন। ওই হাসপাতালেরই নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান অরুণাভ সেনগুপ্ত ডায়াবিটিস, সিওপিডি ও উচ্চ রক্তচাপের মতো কোমরবিডিটি নিয়ে মে মাসে সংক্রামিত হন। প্রবীণ এই ডাক্তারের লড়াইটা তাই যথেষ্ট কঠিন ছিল। ১৮ দিন তাঁকে কাটাতে হয়ে ছিল আইসিইউতে। তিনি বলেন, মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু সেটা ইতিহাস। এখন আমি চিকিৎসায় মন দিয়ে ছি।

মাথা ও গলার অঙ্কোলজি সার্জন সৌরভ দত্ত বলেন, করোনা সংক্রামিত ডাক্তারদের মধ্যে মৃত্যুহার নিঃসন্দেহে বেশি। কিন্তু পেশাকে ভালোবেসেই আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি। ফিরে দেখার তাই জায়গা নেই। জুলাইয়ে শেষের দিকে তিনি ১৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সংক্রমণের ফলে তাঁর ফুসফুসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবুও তিনি আবার পুরোদস্তুর কাজে ফিরেছেন। কখনও নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল, কখনও এসএসকেএম হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করছেন এখন। বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান মনোজ মুখোপাধ্যায় অগাস্ট মাসে সংক্রামিত হন। জুন মাসে এনআরএস মেডিকেল কলেজ থেকে তাঁকে বাঁকুড়ায় বদলি করা হয়। তিনি বলেন, কোভিডের জন্য এক মাসেরও বেশি আমি কাজে যোগ দিতে পারিনি। ৩ সপ্তাহ বাদে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও শরীরের দুর্বলতার জন্য কাজে ফিরতে পারিনি। কিন্তু এখন আর ফিরে তাকানোর জায়গা নেই।

- Advertisement -

আনন্দপুরের ফর্টিস হাসপাতালের পালমোনলজিস্ট রাজা ধর ওই হাসপাতালের কোভিড টিমের সঙ্গে প্রথম থেকেই যুক্ত। অগাস্ট মাসে তিনি সংক্রামিত হন। তিনি একা নন, তাঁর মা ও স্ত্রী সংক্রামিত হয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে আমাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। কিন্তু এটাই তো আমাদের পেশা। বিশেষ করে বক্ষরোগের ডাক্তারদের ঝুঁকি আরও বেশি। এখন শরীরে একটু ক্লান্তিবোধ, মাথাঘোরা, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ রয়েছে। করোনামুক্তদের অনেকের মধ্যেই এসব দেখা যাচ্ছে। তবে আমি কাজে ফিরতে পেরেছি। এতেই খুশি। হাসপাতালগুলির কর্মসংস্কৃতিকে যেন রাতারাতি বদলে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। সিনিয়ার ডাক্তার থেকে পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট ট্রেনি, সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবাই পণ করেছেন, জিততে হবে এই লড়াই।