কলকাতা মেডিকেল কলেজের আন্দোলন পেল নতুন মাত্রা

272

কলকাতা: কোভিড ১৯ চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করার দাবিতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের যে আন্দোলন চলছিল, শুক্রবার তাতে যোগ দিল নুতন মাত্রা। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আন্দোলন এদিন এসে পড়ল রাজপথে। জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই আন্দোলনে শামিল হলেন সিনিয়র ডাক্তার ও কলকাতা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তনীরা।

এদিন দুপুরে তাঁরা কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বাইরে কলেজ স্ট্রিটে গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই, মানববন্ধন কর্মসূচি করলেন। প্রায় একঘণ্টা ধরে তাঁরা ওই মানববন্ধনে শামিল হন।

- Advertisement -

এদিন হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তার ও প্রাক্তনীরা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত নন বলে জানিয়ে দেন। তাঁদের মতে, দেশ থেকে কোভিড ১৯ দ্রুত নির্মূল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই তাঁরা চান যে হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংটিকে কোভিড হাসপাতাল বলে চিহ্নিত করে, বাকি সমস্ত বিভাগে অবিলম্বে অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু করা হোক।

শুধু কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেই নয়, সমস্ত মেডিকেল কলেজে একই ব্যবস্থা নেওয়ার তাঁরা দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র কোভিড ১৯-এর জেরে মেডিকেল কলেজগুলির পঠন-পাঠনকে পঙ্গু করা যাবে না। তাই হাসপাতালের ভিতরে জুনিয়র ডাক্তাররা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও, তাঁদের আন্দোলনকে জোরদার করতে সিনিয়র এবং প্রাক্তনীরা হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে তাঁদের সেই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।

তাঁদের মতে, রাজ্য সরকার সংঘাতের পথে যেতে চাইছে। কিন্তু চিকিৎসকরা সংঘাতের পথ চান না। তাঁরা চান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত মীমাংসার সমাধান হোক। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা বলেছেন, রাজ্য সরকারের মনে রাখা উচিত সরকারি সংস্থা এবং মেডিকেল কলেজগুলি চলে সাধারণ মানুষের করের টাকায়। সুতরাং, রাজ্য সরকারের উচিত যে সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষের টাকায় চলে সেই সংস্থাগুলিকে সাধারণ মানুষের সেবার জন্য উৎসর্গ করা। রাজ্য সরকার যদি তাদের একগুঁয়েমি মনোভাব নিয়ে চলে এবং হাসপাতালগুলিকে নিজেদের সম্পত্তি বলে মনে করেন, তাহলে তাঁরা ভুল করবে। সাধারণ গরিব মানুষদের চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করলে তাঁরাও তা মেনে নেবেন না। সমস্ত গরীব সাধারণ মানুষও যখন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়াবেন তখন রাজ্য সরকারের কি হাল হবে তা না বলাই বাঞ্ছনীয়। তবে এই মুহূর্তে রাজ্য সরকার জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি না মানলে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলন নামবেন। সেই সঙ্গে তাঁরা এও জানান, অদূর ভবিষ্যতে তাঁদের সেই আন্দোলনে শামিল হবেন ন্যূনতম চিকিৎসাব্যবস্থা থেকে বাধাপ্রাপ্ত সাধারণ মানুষও। তাই তাঁরা চান, বড় ধরনের সংকট এড়াতে রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু পরিবেশ গঠন করার। আর যদি তা না হয়, তার ফলে যদি কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তার জন্য ভুগতে হবে সরকার ও সরকারি ধামাধরা কিছু আমলা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।