চিকিৎসকদের একাংশ রায়গঞ্জকে গ্রিন থেকে রেড জোনে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন

1103

রায়গঞ্জ, ২ মেঃ উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন যখন করোনা রুখতে তৎপর জেলাশাসক থেকে পুলিশ সুপার ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুঁটছেন, তখন চিকিৎসকদের একাংশের জন্য জেলা গ্রিন থেকে রেড জোনে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা। এবারে করোনা আক্রান্ত হলেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এক চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল তিনি বাসে চেপে কলকাতা থেকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হয়ে শিলিগুড়ি গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। এই ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকায় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও মেডিক্যাল কলেজের এ্যাকাউন্টেন্টকে রায়গঞ্জের বোগ্রামে সরকারী কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ওই ৩ জনের সোয়াবের নমুনা মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায়।

উত্তর দিনাজপুর জেলায় বর্তমানে করোনা পজিটিভ না থাকায় গ্রিন জোন হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্র নাথ প্রধান জানিয়েছেন, সকলের সহযোগিতায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালছে। তবে, তাঁর দাবি ৩ জন নয় মোট ৪ জনকে কোয়ারান্টাইন হোমে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১ জন মেডিকেল অফিসারও রয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় করোনা স্ক্রীনিংয়ের জন্য কিয়স্ক খোলা হয়েছে। করোনা টেস্টের স্যাম্পেল নেওয়ার জন্য ইসলামপুর ও রায়গঞ্জে ২টি ভ্রাম্যমান অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও চালু হয়েছে। নিয়ম মেনে করোনার পরীক্ষা হচ্ছে জেলাজুড়ে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একশ্রেণির চিকিৎসক সরকারী নিয়ম না মেনে লকডাউনের মধ্যেও কলকাতা, হুগলী সহ অন্যান্য জায়গা থেকে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ। কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গ সংবাদে সেই খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

- Advertisement -

সাধারন মানুষের অভিযোগ, সরকার থেকে করোনা মোকাবিলায় সবধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু, কিছু চিকিৎসক বাইরের জেলাগুলি থেকে যাতায়াত করছেন। তাঁদের অবিলম্বে পরীক্ষা করা উচিত। নাহলে বাড়তে পারে সমস্যা। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংস্পর্শে আসায় তাঁদের সোয়াবের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কলেজের সহকারী প্রিন্সিপাল প্রিয়ঙ্কর রায় জানিয়েছেন, খবর পাওয়া মাত্রই মেডিক্যাল কলেজের ১জন চিকিৎসক, ১জন নার্স ও ১জন অ্যাকাউন্টেন্টকে সরকারী কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কোভিড-১৯ টেষ্টের জন্য শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও পজিটিভ কেস ধরা পড়েনি। ৩ জনের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, রায়গঞ্জ থানার ৫ জন পুলিশকর্মীকেও কোয়ারান্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর মহকুমায় ২টি ভ্রাম্যমান ভ্যান প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে লালা রস সংগ্রহ করছে। প্রতিদিন গড়ে ১০০ মানুষের লালা রস সংগ্রহ করতে পারবে। পরে সেই লালা রসের নমুনা মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। প্রচুর মানুষের করোনা পরীক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান জানিয়েছেন, সংগৃহীত লালা রসের নমুনা কেভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। জেলায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষের পরীক্ষার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।