রাঙ্গালিবাজনা : কথা ছিল মাসের মধ্যে শেষ করা হবে দলগাঁও রেলস্টেশন চত্বরে ডলোমাইট ওঠানামার জায়গা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ। কিন্তু কুড়ি মাসেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। বাস্তবে, তিন চার মাস কাজ চলার পরই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, জমিজটে আটকে রয়েছে প্রকল্পের কাজ।

আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার দলগাঁও রেলস্টেশন চত্বরেই ডলোমাইট ওঠানামার কাজ চলছে বছরের পর বছর ধরে। বীরপাড়ার বাতাসে সারাদিন ভেসে বেড়ায় ডলোমাইটের গুঁড়ো। প্রসঙ্গত, পাগলি ভূটান থেকে ডলোমাইট বোঝাই করে প্রচুর ট্রাক ও ডাম্পার বীরপাড়ায় আসে। বীরপাড়ার দলগাঁও রেলস্টেশন চত্বরে ডলোমাইট নামিয়ে দেয় ট্রাকগুলি। সেখানেই ওয়াগনে বোঝাই করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয় ডলোমাইট। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পটি বীরপাড়া থেকে কিছুদূরে মুজনাই রেলস্টেশনের কাছে হরিপুরে সরানোর জন্য ২০১৭ – ১৮ আর্থিক বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্প সরানোর কাজ শুরু হয়। প্রকল্প মোতাবেক, হরিপুরে ট্রাক থেকে ডলোমাইট নামিয়ে রাখার জন্য সাতশো মিটার লম্বা ও তিরিশ মিটার চওড়া জায়গা থাকবে। ওয়াগন দাঁড়ানোর জন্য পৃথক লাইন, ব্যবসায়ীদের অফিস  ও শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামকক্ষ থাকবে। কিন্তু, জমি না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজ আটকে রয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ারের ডিআরএম কে এস জৈন  বলেন, ‘রাজ্য সরকার জমির বিষয়টি নিয়ে এখনও ছাড়পত্র দেয়নি । রেল আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছে। কিন্তু সেই ফাইল এখনও পর্যন্ত কলকাতায় ওই দপ্তরেই আটকে রয়েছে। অনেকটা কাজ এগোলেও বাকি কাজটুকু করা যাচ্ছে না জমির অভাবে।’

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে খবর,  প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করার জন্য রেলের নিজস্ব জমি ছাড়াও রাজ্য সরকারের জমি প্রয়োজন । রেললাইনের পাশে রেলের যেটুকু জমি রয়েছে তাতে মাটি ভরাট করা হয়েছে। লাইন পাতার জন্য স্লিপার, পাথর এনে বছর দেড়েক ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু, রাজ্য সরকারের হাতে থাকা  খাস জমি এখনও রেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। ডিআরএম বলেন, ‘রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রায় সাত একর জমি প্রয়োজন।’

বীরপাড়া থেকে ডলোমাইট সাইডিংয়ের জায়গা সরানোর কাজ  আটকে থাকার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের ডিআরএমের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা, বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগ্গা, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা সহ বিজেপির নেতারা। গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাবেই কাজ আটকে রয়েছে । ফলে, সমস্যায় ভুগছেন বীরপাড়ার হাজার হাজার মানুষ ।”

মনোজ টিগ্গা বলেন, ” ডলোমাইটের গুঁড়োয় বীরপাড়ার জনজীবন বিপর্যস্ত।  প্রতিদিন শ’য়ে শ’য়ে ট্রাক ও ডাম্পার ডলোমাইট বোঝাই করে বীরপাড়ায় ঢোকে ও বের হয় । ফলে, ব্যাপক যানজট প্রতিদিনই হচ্ছে,  দুর্ঘটনাও ঘটছে। অথচ, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার জন্য ডলোমাইট ওঠানামার প্রকল্পটি স্থানান্তরের কাজ করা যাচ্ছে না।’

তৃণমূলের মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি মান্নালাল জৈন বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে  রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। সেই নীতি অনুসারে, যে কোনো বিভাগই হোক, রাজ্য সরকারের কাছে জমি প্রয়োজন হলে তা কিনে নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। হরিপুরে সরকারি জমির ওপর পাট্টা রয়েছে। তাই প্রয়োজন হলে রেলকে ওই জমি পাট্টার মালিকদের কাছে কিনতে হবে।’

আলিপুরদুয়ারের জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, ‘ওই জায়গায় জমি সংক্রান্ত বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।’

ছবি- বীরপাড়ার দলগাঁও রেলস্টেশন চত্বরে এভাবেই ডলোমাইট ওঠানামার কাজ চলে।

তথ্য ও ছবি- মোস্তাক মোরশেদ হোসেন