রাসমেলায় ব্যবহার হচ্ছে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

357

প্রাণপ্রতিম পাল, কোচবিহার : কোচবিহারের রাসমেলার শুরুর দিন থেকে বিভিন্ন খাবারের দোকান চালু হয়েছে। মেলার মাঠে থাকা ওইসব খাবারের দোকানের মধ্যে কয়েকটি দোকান বাদ দিলে বেশিরভাগ খাবারের দোকানে সরকারি নিয়ম ভেঙে রান্নার কাজে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাসমেলায় দুশোর বেশি বিভিন্নরকম খাবারের দোকান রয়েছে। জিলিপি, পিঠে-পুলি থেকে শুরু করে ফাস্ট ফুডের নানারকম দোকান এই মেলায় রয়েছে। কোথাও রান্না হচ্ছে উনুনে। আবার কোথাও ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে রান্না চলছে। অনেক দোকানদার রাসমেলায় বিপজ্জনকভাবে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে মজুতও করছেন। ফলে যে কোনো সময় রাসমেলায় বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

- Advertisement -

রাসমেলায় খাবারের দোকান বসার আগে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। দমকল বিভাগ থেকে মেলার শুরুর দিন বিভিন্ন খাবারের দোকানে দোকানে ঘুরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরা ব্যবসায়ীদের সচেতনও করেছেন।

অথচ রাসমেলার ময়দানে বিভিন্ন খাবারের দোকানে অবাধে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হলেও এর বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাসমেলায় বিভিন্ন খাবারের দোকানে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখার ঘটনায় পুর কর্তৃপক্ষও চিন্তিত। পুরসভার চেযারম্যান ভষণ সিং বলেন, এই সমস্ত বিষয় আমাদের দেখার কথা নয়। পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং দমকল বিভাগের তরফে এই বিষয়টি দেখার কথা।

কোচবিহারের আইনজীবী শিবেন্দ্রনাথ রায় বলেন, রাসমেলায় খাবারের দোকানে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার করা কখনোই উচিত নয়। দমকল বিভাগের ওইসব দোকানের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা দরকার। পুলিশও এ বিষয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।

কোচবিহার দমকল বিভাগের তরফে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে রাসমেলার মাঠে সবজি বাজার এলাকায় একটি দমকলের ইঞ্জিন রাখা হয়েছে। তেমনি এমজেএন স্টেডিয়ামের মাঠেও একটি দমকলের ইঞ্জিন রাখা হয়েছে। কোচবিহার দমকলকেন্দ্রের ওসি রঞ্জন ঘোষ বলেন, প্রতিটি খাবারের দোকানে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা রয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে। আমরা ফের একবার ব্যবসায়ীদের সচেতন করব। তারপরও তাঁরা সচেতন না হলে আমরা অভিযান চালাব। আর খাবারের দোকানে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের বিষয়টি দেখার দাযিত্ব আমাদের নয়। পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এই বিষয়টি দেখে থাকে। তারাই এ ব্যাপারে বলতে পারবে। রাসমেলার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মাথাভাঙ্গা) ইন্দ্রজিত্ সরকার বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।