সৌন্দর্য্যের সম্ভারে গজলডোবার বিকল্প দোমোহনি

71

শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি : শীতের সময় চারদিকে পরিযায়ী পাখিদের কিচিরমিচির। কখনও সেগুলি দলবেঁধে আকাশে ডানা মেলে উড়ছে কখনও বা নদীতে চুপ করে ডুব মেরে মাছ তুলে আনতে ব্যস্ত।  মাঝে মাঝেই বয়ে যাওয়া শীতল উত্তুরে হাওয়ায় গায়ে রীতিমতো কাঁটা দেবে। নদীর বুকে নৌকা নিয়ে মাঝিভাইদের দেখলে ক্যামেরার শাটার টিপতে হাতটা নিশপিশ করবেই। সূর্যাস্ত দিনভরের ক্লান্তিটা গায়ে করে দেবে একনিমেষে। বাড়তি পাওনা বলতে সামান্য খরচে আশপাশের দোকান থেকে উত্তরের সুস্বাদু বোরোলি মাছের আস্বাদে রসনাতপ্তির সুযোগ। কোন জায়গা বলুন তো? কুইজে এমন প্রশ্ন এলে আপনার উত্তর নির্ঘাত হবে গজলডোবা। এই উত্তর ভুল নয়। আবার পুরোপুরি ঠিকও নয়। কেন-না প্রায় একই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সম্ভার নিয়ে সবার পরিচিত গজলডোবাকে এবারে অলক্ষ্যে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে দোমোহনির তিস্তার বাঁধ, যাকে কেন্দ্র করে এলাকা অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে। আড়ালে উত্তরের পর্যটন মুকুটে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি পালক।

ডুয়ার্সের টুর অপারেটর উজ্জ্বল শীল বলেন, পর্যটকরা ডুয়ার্সে ঘুরতে এসে দিনভর ময়নাগুড়ির বিভিন্ন মন্দির ও রামশাইতে মেদলা নজরমিনার ঘোরার পর বিকেলের দিকটায় কিছুটা ফাঁকা সময় পান। দোমোহনির তিস্তার বাঁধ ইতিমধ্যেই তাঁদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। এলাকাটিকে সাজিয়ে তুলতে ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতি। মঙ্গলবার ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিবম রায়বসুনিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শন করে। তারপরে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। এলাকায় একটি জীববৈচিত্র‌্য পার্ক গড়ে তোলা হবে বলে পঞ্চায়েত সমিতির তরফে জানানো হয়েছে। ডুয়ার্স থেকে জেলা শহর জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথে দোমোহনি তিস্তার বাঁধ দিয়ে কিছুদূর এগোলেই রেলের ওয়াই লাইনের পাশেই তিস্তার অপরূপ রূপ দেখা যাবে। বছরভরই এখানে বহু পাখির দেখা মেলে। গোটা শীতকালজুড়ে এখানে পিনটেল, লেসার হুইসলিং, ব্রাহ্মিস গুজ, রেড গুজের মতো অসংখ্য পরিযায়ী পাখির দর্শন মন ভরাবেই। সম্ভাবনা বুঝে বাম আমলে এই জায়গাটিকে পক্ষীনিবাস হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লাল ফিতের ফাঁদে আটকে ওই কাজ বাস্তবায়িত হয়নি।

- Advertisement -

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও এই এলাকাটিকে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাস আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এলাকার উন্নতির জন্য আজ পর্যন্ত কোনও সরকারি উদ্যোগ গৃহীত হয়নি।  সম্ভাবনা বুঝে স্থানীয় অনেকেই এখানে ব্যবসার শিকড় গাড়তে উদ্যোগী হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাধা ছেত্রী, বিশ্বজিৎ দত্ত, ভোলা সাহার মতো কয়েকজন এখানে খাবারের দোকান দিয়েছেন। সেই যাত্রা খুব একটি মসৃণ ছিল না মোটেই। প্রথম প্রথম বহুদিন গিয়েছে যেদিন দোকানগুলিতে বউনি পর্যন্ত হয়নি। বিশ্বজিৎবাবুরা অবশ্য দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গিয়েছেন। হাল না ছাড়ার লড়াইয়ের সুফলও মিলেছে। এলাকায় আসা পর্যটকরা আজকাল এই দোকানগুলিতে ভিড় জমান। প্রতিদিন এখানে গড়ে ৩০০-৪০০ পর্যটক আসেন। ছুটির দিনগুলিতে ভিড় আরও বাড়ে। ছোট-বড় মিলিয়ে এখানে গজিয়ে ওঠা ৩০-৪০টি দোকান আরও বড় হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।