বুঁফোর শাপমুক্তি ডোনারুম্মার গ্লাভসে

লন্ডন : এক জিয়ানলুইজি পারেননি। অপর জিয়ানলুইজি পারলেন। আর তাতেই ১৩ বছর পর ইউরোর আসরে টাইব্রেকারে শাপমুক্তি হল ইতালির।

২০০৮ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়েও ট্র‌্যাজিক নায়ক হিসেবে থেকে যেতে হয়েছিল জিয়ানলুইজি বুঁফোকে। টাইব্রেকারে হার মানতে হয়েছিল দাভিদ ভিয়াদের কাছে। স্পেনের সেই স্বর্ণযুগের সূচনায় ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষকের যন্ত্রণা। মঙ্গলবার রাতে ওয়েম্বলির বুকে পূর্বসূরির সেই ক্ষতে মলম লাগালেন জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা। ম্যাচের ১২০ মিনিট স্পেনের গতিশীল তিকিতাকার সামনে একাই কুম্ভ হয়ে উঠেছিলেন বছর বাইশের ইতালীয় গোলরক্ষক। টাইব্রেকারে তাঁর অনবদ্য পারফরমেন্স ইতালিকে নিয়ে গেল ফাইনালে, কাপ জয়ের দোরগোড়ায়।

- Advertisement -

টাইব্রেকে আলভারো মোরাতার শট ডোনারুম্মা বাঁচাতেই উচ্ছ্বাসের সুনামি নামল আজুরিদের ডাগআউটে। উত্তাল নীল গ্যালারির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রবার্তো মানচিনি সহ ইতালির সাপোর্ট স্টাফরা ছুটলেন ফুটবলারদের উল্লাসে যোগ দিতে। ডোনারুম্মার চোখে যখন জল বাঁধ ভেঙেছে। মুখে কথা সরছে না। তাঁর ফাঁকেই রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে জয় তিনি উৎসর্গ করলেন সতীর্থ লিওনার্দো স্পিনাজোলাকে। বেলজিয়াম ম্যাচে গোড়ালির চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন ইতালির সাইডব্যাক। মঙ্গলবার ম্যাচের পর স্পিনাজোলার ৪ নম্বর জার্সি নিয়ে জয়ের উৎসবে মাততে দেখা গেল লরেঞ্জো ইনসিগনে, ফেডরিকো চিয়েসাদের।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক পেনাল্টি বাঁচিয়ে যেন ঘোর কাটছে না ডোনারুম্মার। তিনি বলেছেন, মোরাতার পেনাল্টির সময় কী ভাবনা কাজ করছিল, তা বলা মুশকিল। সতীর্থদের সঙ্গে এই জয়টাকে উপভোগ করতে চাই। ম্যাচের আগে টিমমেটদের উদ্দেশে ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছিলেন স্পিনাজোলা। সেটা যে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করেছে, জানাতে ভোলেননি ডোনারুম্মা।