শিলিগুড়িতে চালু হচ্ছে দুয়ারে ভ্যাকসিন

183

সানি সরকার ও ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : দুয়ারে ভ্যাকসিন এবার শিলিগুড়িতেও। কোভিড সংক্রমণে রাশ টানতে এবং হয়রানি কমাতে এবার প্রবীণদের পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম এবং অসুস্থদের বাড়িতে গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। প্রবীণদের ক্ষেত্রে ৭০ বছর বয়সি বা তদূর্ধ্বদের ধরা হয়েছে। এজন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। কবে থেকে এবং কীভাবে দুয়ারে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়, তার রূপরেখা ঠিক করতে শনিবার বৈঠকে বসছেন প্রশাসনিক কর্তারা। দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, প্রবীণদের টিকাকরণের বিষয়টিকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা এই কর্মসূচি শুরু করতে পারব। শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান গৌতম দেব বলেন, জেলা শাসকের উপস্থিতিতে শনিবার আমরা বৈঠকে বসছি। এই ক্ষেত্রে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য নেওয়া হবে।

প্রবীণদের বাড়িতে গিয়ে যদি ভোট নেওয়া হয়, তবে ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয় কেন, এই প্রশ্ন উঠেছিল দীর্ঘদিন আগেই। এর মূলেই রয়েছে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি বা ভোগান্তি। ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে অনেক প্রবীণ অসুস্থও হয়েছেন। পাশাপাশি, সংক্রামিত হওয়ারও ভয় থাকছে। একইভাবে বিশেষভাবে সক্ষমরা কীভাবে ভ্যাকসিন নেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে জলপাইগুড়িতে দুয়ারে ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালু হয়ে যাওয়ায় দার্জিলিং জেলাতেও বাড়িতে ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি তোলে বিভিন্ন সংগঠন। কিছুদিন আগে জেলা শাসক এস পন্নমবলমের সঙ্গে দেখা করে একই দাবি জানান শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ। আর শুক্রবারই প্রবীণ নাগরিক, অসুস্থতার জন্য চলাচলে অক্ষম এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের বাড়িতে গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন।

- Advertisement -

প্রশাসনিক সূত্রে জানা দিয়েছে, বাড়িতে গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন সাহায্য নিচ্ছে লিভার ফাউন্ডেশন এবং শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের। সমস্ত কিছুই হবে ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে। দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বক্তব্য, ভ্যাকসিন যাঁরা দেবেন, তাঁদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে কিছুদিন সময় লাগবে। তবে আগামী সপ্তাহে কর্মসূচিটি চালু করে দেওয়া হবে।

এদিকে, গ্রামীণ এলাকায় বহু মানুষ ভ্যাকসিন নেওয়ায় অনীহা প্রকাশ করায় বিষয়টি ভাবাচ্ছে চিকিৎসকমহলকে। কারণ বহু প্রচার করেও একশ্রেণির মানুষকে কোনওভাবেই ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা যাচ্ছে না। যার ফলে গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন সংক্রমণের মাত্রা কিছুটা হলেও বাড়ছে। এতেই চিন্তিত চিকিৎসকরা।

শিলিগুড়ি মহকুমার তিনটি ব্লক ও পার্শ্ববর্তী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় বহু মানুষ ভ্যাকসিন নিতে এখনও আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। অথচ শিলিগুড়িতে ভ্যাকসিনের চাহিদা এতটাই বেশি, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ভ্যাকসিনের অমিলের কারণে শহরের মানুষ ছুটছেন গ্রামীণ এলাকায়।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার ডাঃ কল্যাণ খানের বক্তব্য, গ্রামীণ এলাকায় এখনও ভ্যাকসিন নেবার ব্যাপারে মানুষ সচেতন হননি। কোভিড মোকাবিলায় ভ্যাকসিন কতটা জরুরি তা মানুষকে বোঝাতে হবে।