অবৈধ দখলদারির কারণে বৃষ্টির জলে ডুবল বিস্তীর্ণ এলাকা

1312

দুর্গাপুর: মাত্র ছ’ঘন্টার ভারি বৃষ্টিতে জলমগ্ন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের একাংশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টি দুর্গাপুরে এই মরশুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি বলে দাবি করেছে জেলা সেচ দপ্তর। আর এই সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, রায়ডাঙ্গা, ডেয়ারি বস্তি, মেনগেট, কাদারোড, স্টিল টাউনশিপের বেশকিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। আরতি গ্রামে প্রায় ১৬ টি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে মেনগেট ও কাদারোড এলাকার বাসিন্দাদের। এই দুই এলাকায় প্রায় ২০০টি বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে তামলা নালার জল উপচে পড়ায়। গৃহবন্দি হয়ে পড়ে এলাকার একাধিক পরিবারের সদস্যরা।

যদিও রাত তিনটের পর থেকে এলাকার যুবকরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থলে আসেন দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক, পুলিস, প্রশাসনের আধিকারিক ও পুরনিগমের কাউন্সিলররা। শুক্রবার সকাল থেকে জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল এলাকায় এসে গৃহবন্দি পরিবারগুলিকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। উদ্ধারকাজে নামানো হয় দুটি বোর্ড। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এদিন ত্রাণ বিলি করা হয়। বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে এলাকার কয়েকটি স্কুলে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়।

- Advertisement -

মেনগেট ও কাদারোড এলাকায় প্রতিবছর জলমগ্ন হওয়ার জন্য জমি মাফিয়াদের অবৈধভাবে তামলা নালার জমি বিক্রি করাকে দায়ি করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগকারী এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভের জানান, এই দুই এলাকায় নালার গতিপথ পরিবর্তন করেছেন বসবাসকারী বেশকিছু পরিবার। নালার খালে পাকা বাড়ি ও পাঁচিল দেওয়ায় জল বেরোতে পারে না। ফলে নালার পাশে থাকা বাড়ি গুলি যেমন ভাবে জলমগ্ন হয়েছে, তেমনিই নালার জল বাধা পেয়ে উপচে পড়ে আশপাশের এলাকার বাড়িগুলিও জলমগ্ন করেছে। পুরপ্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবৈধভাবে প্রচুর মানুষ প্রায় ২০ বছর ধরে রয়েছেন। বর্তমানে নতুন করে নালা দখল করে কোনও বসতি আর হয়নি। মহঃ নাসিম নামে এক ব্যক্তি বলেন, বহুদিন আগে আমি নালার এই জমি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিনেছি। গরীব মানুষ তাই বাড়িতে জল ঢুকে গেলেও এখানেই থাকতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকবছর আগে মহকুমা প্রশাসন ও সেচ দপ্তর অবৈধভাবে দখল হওয়া নালার জমি থেকে উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নিয়েছিলে। কিন্তু অজানা কোনও কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তারপর ফের জমি মাফিয়ারা নালার জমি বিক্রির কাজ রমরমিয়ে শুরু করে দেয়। বর্তমানে ওই নালার জমি দখল করে এলাকায় বেশ কয়েকটি ছাঁট লোহার কারবারিরা তাদের ব্যবসা শুরু করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগে। তারা প্রতিবার এই এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের পুরোনো তামলা নালা সংস্কারের দাবি করেছিলেন। সেই মত সেচ দপ্তর কোটি কোটি টাকা খরচ করে তা সংস্কারও করেন। কিন্তু অবৈধভাবে বসবাসকারীরা এখনও সেখানেই থেকে যাওয়ায় নালার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে বা আজও বাধা পাচ্ছে।

দুর্গাপুর সেচদপ্তরের আধিকারিক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তামলা নালার প্রায় ২৭.২ কিলোমিটার লম্বা। অণ্ডাল এলাকা থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজের দামোদর নদীতে মিশেছে এই নালা। গ্রাম ও জমির জলসহ দুর্গাপুর শহরের অধিকাংশ নর্দমার জল এসে মিশছে এই নালাতে। দীর্ঘদিনের পলি মজে যাওয়ায় গভীরতা কমে গেছে। নালার জল উপচে জলমগ্ন হচ্ছিল বেশকিছু এলাকা। ২০১৮ সালে প্রায় ২৪ কোটি টাকা খরচ করে ২০ কিলোমিটার নালা সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নালা সংলগ্ন সহ দুর্গাপুরের বেশকিছু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামলা এলাকায় একটি লকগেট খোলা হয়েছে।দ্রুত জল নেমে যাবে। অবৈধভাবে দখল প্রসঙ্গে দূর্গাপুর মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলে বলেন, এটা মানবিক বিষয়। তাই আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এখন আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার কাজ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে।