ডাঃ বিধান রায়ের জন্মদিনে ঐক্যবদ্ধ পথচলার শপথ নিল বাম-কংগ্রেস

234

কলকাতা: বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় যৌথভাবে আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ ও শপথ নেওয়ার জন্য প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব বেছে নিল বাংলার রূপকার তথা প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিনটিকে। বুধবার ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের ১৩৮তম জন্মদিন এবং এদিন তাঁর প্রয়াণ দিবসও। আর এই দিনটি পালন করার জন্য প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সহ বামফ্রন্টের সমস্ত শরিক দলের নেতাদের।

এদিনের প্রদেশ কংগ্রেসের ওই কর্মসূচিতে বিমানবাবু এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র উপস্থিত না থাকলেও, ছিলেন সিপিএম তথা বিধানসভার দলীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। ছিলেন আরএসপির মনোজ ভট্টাচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন চট্টোপাধ্যায়, সিপিআইয়ের স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বামফ্রন্টের শরিক দলের অন্য নেতারা। প্রত্যেকেই এদিন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতিচারণ করেন। তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সৌজন্যতা রক্ষার আদর্শ পুরুষ হিসেবে বিধান রায়কে তুলে ধরেন।

- Advertisement -

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ও আগামী দিনে একসঙ্গে পথচলার সূচনা তাঁরা শুরু করলেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে সামনে রেখে।’ একসময় বামপন্থীরা ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের কট্টর বিরোধী ছিলেন তবুও তাঁর জন্মদিন ও প্রয়াণ দিবসে বামপন্থী নেতাদের আসা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই হল রাজনৈতিক সৌজন্যেবোধ একসময় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে যখন পুলিশ খুঁজছিলেন সেই সময় জ্যোতিবাবু বসে ছিলেন ডঃ বিধান রায়ের বাড়িতেই। এই ধরনের সৌজন্যবোধ অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতা দেখাতে পারেননি।’

ওই ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে সুজন চক্রবর্তী জানান, রাজনৈতিকভাবে সে সময় কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের বিরোধিতা থাকলেও তাঁরা কোনওদিন ব্যক্তি বিরোধিতায় যাননি। এছাড়া ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় একাধারে যেমন ছিলেন সুচিকিৎসক, তেমনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সুপ্রশাসক। তাই এহেন ব্যক্তি ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে অবজ্ঞা করার কোনও পথ তাঁদের কাছে খোলা নেই। এছাড়া ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারীতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে কার্পণ্য করেননি। বর্তমানে রাজ্যের শাসক দল ও কেন্দ্রের শাসকদল যেভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাতান্ত্রিকতার আশ্রয় নিয়েছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিনটি হল আদর্শ সময়। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাম এবং কংগ্রেসের ঐক্যবদ্ধতা নিয়ে তৃণমূল বিপাকে পড়বে কিনা তা তৃণমূলই বলতে পারবে।’ তবে তাঁর মতে, তৃণমূলের জন্য চাপ একমাত্র তৃণমূলই।

নরেন চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘বিরোধীদের সঙ্গে সৌজন্যতাবোধের যে উদাহরণ ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় তুলে ধরেছিলেন আজকের দিনে তা দুর্লভ।’ তাঁর মতে, রাজ্যে আজ গণতন্ত্র নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ, বাকস্বাধীনতা লুণ্ঠিত হচ্ছে। এই সময়ে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের আদর্শ ও চিন্তা ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই হবে আসল কাজ।’

মনোজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্তমানে রাজ্য এবং কেন্দ্রের শাসকদল দিশা হীনতায় ভুগছে। আর সেই কারণেই এই সময়ে একমাত্র ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ই হলেন প্রাসঙ্গিক।’

এছাড়াও এদিন ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৌরভ প্রসাদের নেতৃত্বে যেমন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিবস পালন করা হয়, তেমনি যুব আইএনটিইউসির চেয়ারম্যান প্রশান্ত সামন্তর নেতৃত্বে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।