ছায়াপথ চিনিয়ে ভাটনগর পুরস্কার পাচ্ছেন দিনহাটার কনক

346

শুভঙ্কর সাহা, দিনহাটা : পোশাকি নাম এইউডিএফ এসজিরোওয়ান। প্রায় ৯৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের এক গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ। এর খোঁজ পাওয়ার পর থেকেই সারা বিশ্বের নয়নের মণি ডঃ কনক সাহা। দিনহাটা শহরে সারদাপল্লির বাসিন্দা কনক পুনের ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার। পাশাপাশি গবেষণাও করেন। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অবদানে শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারের জন্য এবারে দিনহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তনী কনককেই বেছে নেওয়া হয়েছে। খবর ছড়াতেই দিনহাটা সহ গোটা উত্তরে খুশির হাওয়া।

এখন জীবন সহজ হলেও একটা সময় বেশ কঠিন ছিল। গরিব পরিবারে জন্ম। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বড়। জীবনে সমস্যা থাকলেও পড়াশোনাকেই বরাবর ফোকাস করেছেন। স্থানীয় যোগেশচন্দ্র সাহা হাইস্কুলে পড়াশোনা। সেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর নবম শ্রেণিতে দিনহাটা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি।  সেখান থেকে প্রথমে মাধ্যমিক ও পরে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ। এরপর সেখানে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স পাশের পর বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার ডিগ্রি। মন দিয়ে পড়াশোনাকে ভালোবাসায় পড়াশোনাও ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে কিছুদিন মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার পর মহাকাশ নিয়ে গবেষণার জন্যই বিদেশে যাওয়া। জেনেভা অবজারভেটরি, রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতো পৃথিবীর প্রথম সারির মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন সময়ে ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে পুনের ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে পড়ানোর পাশাপাশি গবেষণাও করছেন।

- Advertisement -

এই গবেষণাকেন্দ্রটি দেশের মহাকাশ গবেষণার প্রথমসারির প্রতিষ্ঠান।  আর এখানেই গবেষণা করতে গিয়ে কনক ও তাঁর টিম  ৯৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের এক গ্যালাক্সির খোঁজ পায়। ইসরোর টেলিস্কোপের মাধ্যমে এইউডিএফ এসজিরোওয়ান নামে এই গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের (নক্ষত্রপুঞ্জও বলা যায়) খোঁজের সুবাদে কনক গোটা দুনিয়ায় হইচই ফেলে দেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অবাদানের সুবাদে কনককে নিয়ে বহুদিন ধরেই গোটা দেশে চর্চা রয়েছে। নতুন ছায়াপথের সুলুকসন্ধান দেওয়ার সুবাদে দেশের কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) কনককে এবারের শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে।

ফোনে পুনেতে কনককে যখন ধরা হল তখন তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। বললেন, শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার পাচ্ছি বলে রবিবার দুপুরে খবর পাই। খুব ভালো লাগছে। এত তাড়াতাড়ি এই পুরস্কারের কোনও আশা ছিল না। ছেলের প্রাপ্তিতে মা তুলসী সাহা খুশিতে ডগমগ। দিনহাটার বাড়িতে বসে বললেন, প্রথমে ছোট ছেলে ফোন করে আমাকে খবরটা দেয়। পরে কনকের সঙ্গে কথা হয়। ছোট থেকে খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। ওর এই পুরস্কার পাওয়ার খবরে খুবই ভালো লাগছে।

দিনহাটা হাইস্কুলেও খুশির হাওয়া বইছে। স্কুলের রসায়নের শিক্ষক জয়ন্ত চক্রবর্তী বলছেন, দিনহাটার মতো প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এজাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি অভাবনীয়। স্কুলের প্রাক্তনী সোমক ভট্টাচার্যের কথায়, বিষয়টি এখানকার পডুয়াদের খুবই অনুপ্রাণিত করবে। এই স্কুলের আরেক প্রাক্তনী স্বর্ণদীপ সাহা  ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছেন। কনকের সাফল্যে উদ্ধুদ্ধ হয়ে তিনিও আগামীতে গবেষণার পথে পা বাড়াবেন বলে ঠিক করেছেন।