নালা দখলের জেরে ডিআই ফান্ড মার্কেটের নিকাশি বেহাল

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : সময়ে সঙ্গে সঙ্গে দখল হয়ে গিয়েছে বাজারের নালা। এমনকি কিছু নালার মুখ বন্ধও হয়ে গিয়েছে। যার ফলে ভেঙে পড়েছে শিলিগুড়ির ডিআই ফান্ড মার্কেটের নিকাশি ব্যবস্থা। যার ফলে শতবর্ষ পুরোনো এই মার্কেটে সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে থাকছে। তার মধ্যে বসেই কেনাবেচা চলছে। বাজারের মুড়িহাটি, সবজিহাটি এবং চালহাটির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। যদিও নিকাশির হাল ফেরাতে উদ্যোগী নয় কোনও পক্ষই। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মদতের জেরে বাজারে নালা দখল করে দোকান তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের একাংশও ওই বেআইনি কারবারিদের মদত দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

শিলিগুড়ির ডিআই ফান্ড মার্কেট ব্রিটিশ আমল থেকেই শহরে ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বেচাকেনা করতে এই বাজারে আসেন। ব্রিটিশ আমলে সপ্তাহে বুধবার ও রবিবার করে হাট বসত। এখন হাটটি দৈনন্দিন বাজারে পরিণত হয়েছে। সেই আমলেই মূল নালার সঙ্গে অসংখ্য ছোট নালা যুক্ত করে নিকাশিব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। এখন সেই নালাগুলির অধিকাংশই দখল হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদতে কিছু ব্যবসায়ী এই দখলদারির পিছনে রয়েছেন বলে অভিযোগ। ওই ব্যবসায়ীরা নালা দখল করে দোকান সম্প্রসারণ করছেন। আবার নতুন করে দোকানও খোলা হচ্ছে। এর পেছনে লক্ষ-লক্ষ টাকার কারবার চলে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, জল যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শম্ভু পাল, রাজেশ সাহার মতো অসংখ্য ব্যবসায়ী। সামান্য বৃষ্টিতেই তাঁদের দোকানের সামনে জল জমে যাচ্ছে। বৃষ্টির বেগ বাড়লে জল উপচে ঢুকে পড়ছে দোকানে। মুড়িহাটির ব্যবসায়ী শম্ভু পাল বলেন, নালা তো দখল হয়েছেই। যা রয়েছে সেটাও তো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। একটু বৃষ্টি হলে সামনের রাস্তা থেকে দোকানের ভিতর জল জমছে। তার মধ্যেই ব্যবসা করতে হচ্ছে। জল ঢুকে বহু সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা তো রয়েছেই। এ প্রসঙ্গে পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রামভজন মাহাতো বলেন, ওখানে নালা দখল করে একের পর এক দোকান গজিয়ে উঠছে। জল জমে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয় মদতেই যে সমস্তটা চলছে, সেটা পরিষ্কার। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

যদিও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর প্রশান্ত চক্রবর্তীর দাবি, যা দখল হয়েছে সেটা তো আমার সময়ে আগে হয়েছে। ওগুলো আমি তো সরাতে পারি না। মুড়িহাটি সংলগ্ন এলাকায়ও আমি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই হাতেগোনা কয়েকজন বসছেন, লকডাউনের জেরে তাঁদের সরানো যায় না। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলের এই বাজারের নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। ওয়ার্ডটি বামেদের দখলে থাকার সময় আমরা এই ব্যাপারে আন্দোলন করেছিলাম। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এখন আর কিছু করা সম্ভব নয়। পালটা ওয়ার্ডের সিপিএম নেতা তুফান ভট্টাচার্য বলেন, উনি দশবছর ধরে ওয়ার্ডের ক্ষমতায় রয়েছেন। নালা সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি কেন উদ্যোগী হলেন না? জল জমার সমস্যা তো দুইবছর ধরে রয়েছে। কেন হচ্ছে, সবাই জানে। উনি কেন সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? দখলদারির পেছনে কে রয়েছেন, সবাই জানে।