শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে পঞ্চনই নদীর দিকে যাওয়া নিকাশিনালাটি সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনটি বস্তি ঘুরে নালাটি মাটিগাড়ার খোলাই বকতলির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। যদিও খোলাই বকতলির অংশে দুপাশ দিয়ে অবৈধ দখলদারির জেরে জল যাওয়ার রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই চারটি বস্তির পাঁচ হাজার মানুষ জমা জলের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অবৈধ দখলদারির পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক মদতপুষ্ট দালালচক্র জড়িয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক মদত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন  পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার মালতী রায়।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে পঞ্চনই নদীতে যাওয়া এই নালাটি প্রায় ত্রিশ বছরের পুরোনো। ওয়ার্ডের সাউথ আম্বেদকর কলোনি, আম্বেদকর কলোনি হয়ে নালাটি চতুর্থ মহানন্দা সেতুর নীচ দিয়ে মাটিগাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খোলাই বকতলি বস্তিতে ঢুকেছে। সেখান দিয়ে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পঞ্চনই নদীতে গিয়েছে। নালার পুরনিগমের অংশটি বছর দুয়ে আগে পাকা করা হয়েছে। যদিও পঞ্চায়েত এলাকার অংশ এখনও পাকা হয়নি। খোলাই বকতলির মধ্যে দিয়ে যাওয়া নালার ওই ৪০০ মিটার অংশটিই গোটা এলাকার দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  নালার ওই অংশটি যেমন আগাছায় ভরে গিয়েছে, তেমনই দুধার দিয়ে অবৈধ দখলদারির জেরে নালাটির মুখ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চার বস্তির বাসিন্দাই এর ফল ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ঠোকরের বাসিন্দা বিজু রায়। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারির জেরে জল যেতে না পারায় বৃষ্টি হলেই এলাকায় হাঁটুসমান জল উঠে যাচ্ছে। দুদিন বৃষ্টি হলে তিন-চারদিন ধরে জল জমে থাকছে। স্কুল, কাজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ওই দখলদাররা কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও এলাকাবাসীদের কথায়, অবৈধ ওই দখলদারির পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক মদতপুষ্ট এক দালালচক্র জড়িয়ে রয়েছে। তাদের অঙ্গুলিহেলনেই চলছে এই দখলদারি। পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার মালতী রায় বলেন, গতবছরেই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। নালার জল যাওয়ার জন্য ওই জবরদখলগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। ওঁরা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুই করেননি। ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক হোক কিংবা অন্য কিছু কারণে যে রয়েছে, সেটা স্পষ্ট। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য মমতা সিংয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তাঁর স্বামী তথা এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য রাম সিং মালতীদেবীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় তিনটি অবৈধ নির্মাণ ভেঙেছি। আরও কয়েটা রয়েছে। দালালচক্রের কোনো অভিযোগ আমার কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, মহকুমা পরিষদের কাছে আমরা বহুবার নালার এই অংশটুকু পাকা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছে না। নালা পাকা করার কাজ শুরু হলে বাকি থাকা অবৈধ নির্মাণগুলি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। ভাঙার দায়িত্ব আমাদের। মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার জন্য প্রায় দুই কোটিরও বেশি টাকা পড়ে রয়েছে। ওঁরা কেন সেই টাকা ব্যবহার করছেন না, সেটাই প্রশ্ন। অবৈধ নির্মাণ ভাঙার ক্ষমতা বিডিওর রয়েছে। আমরা ওই এলাকায় নালাকে কেন্দ্র করে চলা  অবৈধ দখলদারির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।