নয়ানজুলি দখলমুক্ত করল প্রশাসন, স্বস্তিতে কয়েক হাজার কৃষক

474

গাজোল: খবরের জেরে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। জেসিবি মেশিন দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়া নয়ানজুলি খুঁড়ে দিল প্রশাসন। যার জেরে স্বস্তি ফিরল প্রায় হাজার দুয়েক কৃষকের। ঘটনার জেরে প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কৃষকেরা।

গাজোলের করকোচ গ্রাম পঞ্চায়েতের আহোড়া বিল এলাকায় রয়েছে প্রায় ছয় হাজার বিঘা উর্বর কৃষিজমি। জমিগুলি একটু নিচু হওয়ার জন্য বর্ষাকালে সামান্য সময়ের জন্য জল জমে যায়। কিন্তু সেই জমা জল নয়ানজুলি দিয়ে শ্রীমতি নদীতে গিয়ে পড়ত। এর ফলে জমিতে বেশিদিন জল দাঁড়িয়ে থাকত না। কিন্তু সাম্প্রতিককালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সেই নয়ানজুলি বুজিয়ে দেয়। এতে আটকে যায় জল বের হওয়ার রাস্তা। মাসের পর মাস ধরে জলমগ্ন হয়ে থাকে চাষের জমিগুলি। নয়ানজুলি দখলমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দরবার করে কৃষকেরা। কিন্তু কাজের কাজ না হওয়ায় গত ২৬ অগাস্ট ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন কৃষকেরা। দলে দলে কৃষকেরা জমা হতে থাকে জাতীয় সড়কের ধারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন গাজোল থানার ওসি হারাধন দেব, রোড সেফটি অফিসার বাসুদেব মজুমদার। কৃষকদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রাস্তা অবরোধ থেকে বিরত করেন তাঁদের। বিষয়টি নিয়ে বিডিওর দপ্তরেও আলোচনা হয়। কৃষকদের সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হয় উত্তরবঙ্গ সংবাদেও। প্রশাসন আশ্বাস দেয় কয়েক দিনের মধ্যেই দখল হয়ে যাওয়া নয়ানজুলি পুনরুদ্ধার করা হবে। এরপর এদিন থেকেই শুরু হয়ে যায় জোরকদমে কাজ। জেসিবি মেশিন দিয়ে নয়ানজুলি পুনরুদ্ধার করার কাজ শুরু করে প্রশাসন। আর এই কাজে খুশি কৃষকেরা।

- Advertisement -

কৃষক দেবেশ মণ্ডল, বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস জানিয়েছেন, নয়ানজুলি পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁরা প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। মূলত তাঁদের জন্যই এই সমস্যা থেকে মুক্ত হচ্ছেন তাঁরা। নয়ানজুলি ভরাট করে দেওয়ার জন্য জমি জমা জল বের হতে পারছিল না। যার ফলে সমস্যায় পড়েছিলেন প্রায় হাজার দুয়েক কৃষক। এদিন জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে নয়ানজুলিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে জমির জমা জল এবার সহজেই বের হয়ে যাবে। আবার নতুন করে কৃষি কাজ শুরু করবেন তাঁরা।