পার্টি অফিসের জন্য ৪০ লক্ষ টাকার নিকাশিনালার কাজ আটকে

জ্য়োতি সরকার, জলপাইগুড়ি : তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি বেআইনিভাবে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করায় জলপাইগুড়ি পুরসভার ৪০ লক্ষ টাকার নিকাশিনালা নির্মাণ প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। জলপাইগুড়ি শহরের মাসকালাইবাড়ি জলাধার সংলগ্ন এলাকায় নিকাশিনালার ওপরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি কার্যালয় নির্মাণ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নিকাশি সমস্যার সমাধান হওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নালার ওপরে রাজনৈতিক দলের অফিস নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় মানুষ ভালো চোখে দেখছেন না। তবে নেতাদের ভয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন।

প্রতি বর্ষাতেই ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকার রাস্তায় জল জমে যায়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জলপাইগুড়ি পুরসভা ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে নিকাশিনালা নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। টেন্ডার শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। কিন্তু রাজনৈতিক দল দুটির অফিসের এলাকায় নালার কাজ করা সম্ভব হয়নি। নালার ওপরে অফিস নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক হলেও কোনও দলই অফিস ভাঙতে উদ্যোগী হয়নি। এ প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, এই প্রবণতা বাম আমলে শুরু হয়েছে, পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসও করেছে। তাই আমরাও করেছি। তৃণমূল কংগ্রেস অফিস স্থানান্তর করলে আমরাও করব। অন্যদিকে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন। দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -

তৃণমূল ও বিজেপির সমালোচলায় সরব হয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, জলপাইগুড়িতে জল জমা একটা বড় সমস্যা। সব দলেরই দায়িত্ব এই সমস্যা মেটানোয় উদ্যোগী হওয়া। অথচ তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি নেতারা এই বিষয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করছেন। একইসুরে প্রাক্তন বাম কাউন্সিলার প্রদীপ দে বলেন, মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে পুরসভার উচিত ওই পার্টি অফিস ভেঙে নিকাশিনালার কাজ দ্রুত শুরু করা। এ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য সন্দীপ মাহাতো বলেন, নিকাশিনালা নির্মাণ করাটা জরুরি। ওই পার্টি অফিস সরানোর জন্য আমরা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করব। পরবর্তীতে অবস্থা বুঝে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।