ফালাকাটায় পানীয় জলের সংকট

482

ফালাকাটা: পিএইচই’র পাইপ ভেঙে যাওয়ায় ফের পানীয় জলের সংকট শুরু হয়েছে ফালাকাটায়। ব্লকের উত্তর কালীপুর, দক্ষিণ কালীপুর,বংশীধরপুর সহ চার পঞ্চায়েত এলাকায় জল না মেলায় কয়েক হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা ডাইভারশনের পাশে জলের পাইপ লাইন মেরামত করতে গিয়ে বারবার সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দুর্গাপুজোর আগে ও পরেও দু’বার বেশ কয়েদিন জল পরিষেবা বন্ধ ছিল। এবার ফের একই সমস্যার কারণে ফালাকাটার এইসব এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বাসিন্দারা দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে রাস্তা অবরোধের হুমকি দিয়েছেন। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাচ্ছি। দ্রুত জল পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে।’

প্রায় দু’বছর আগে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পাশে আসাম মোড় এলাকায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রায় ৬ কোটি টাকায় পানীয় জলের রিজার্ভার তৈরি হয়। এই রিজার্ভারের মাধ্যমে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ এলাকায় পানীয় জল পরিষেবা চালু হয়৷ কিন্তু চারলেনের মহাসড়কের কারণে পাইপ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় এক বছর থেকেই রাইচেঙ্গার একাংশ ও কাদম্বিনি চা বাগান এলাকায় জল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। তবে বাকি এলাকাগুলিতে দিনে একবার করে বাসিন্দারা জল পাচ্ছেন। এদিকে চলতি বর্ষায় পুজোর আগে নদীর জলোচ্ছাসে চরতোর্ষা ডাইভারশনের পাশাপাশি জলের পাইপ লাইনও ভেঙে যায়। তখন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জল পরিষেবা বন্ধ ছিল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুজোর সময় জোড়াতালি দিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয়। তাই পুজোর পরও ৫-৬ দিন জল পরিষেবা বন্ধ ছিল। গত সোমবার ফের ওই ডাইভারশনের পাশেই পিএইচই-র মূল পাইপ ভেঙে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে জল পাচ্ছেন বাসিন্দারা।

- Advertisement -

কালীপুরের গৃহবধূ মানসী রায় বলেন, ‘পানীয় জল নিয়ে বারবার ভোগান্তি হচ্ছে। তিনদিন থেকে ট্যাপকলের কাছে জলের পাত্র নিয়ে গিয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে নলকূপের আয়রণযুক্ত জল খেতে হচ্ছে।’ আরেক বাসিন্দা উৎপল মন্ডল বলেন,’বারবার পরিষেবা ব্যহত হলেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই।’ এবার আগামী দু-একদিনের মধ্যে জল পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে রাস্তা অবরোধ করা হবে বলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন। একই সমস্যা বারবার তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, পানীয় জলের এই প্রকল্পটি এখনও পিএইচই-কে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে রিজার্ভারের পাম্প অপারেটর কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘এবার পরিষেবা ঠিকমতই চলছিল। হঠাৎ কীভাবে চরতোর্ষা ডাইভারশনের পাশে জলের পাইপ ভেঙে গেল বোঝা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে জানিয়েছি। দ্রুত পাইপ মেরামত করে জল পরিষেবা স্বাভাবিকের চেষ্টা চলছে।’