জলপ্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় পানীয় জলের সংকট

412

ফালাকাটা: করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত কারণে লকডাউনের জেরে একাধিক সরকারি প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে গিয়েছে। ফালাকাটা থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত ৪১ কিমি রাস্তায় মহাসড়কের কাজও কয়েক মাস থমকে ছিল। এখন অবশ্য জোরকদমে মহাসড়কের কাজ চলছে। কিন্তু এই মহাসড়কের পাশ বরাবর জলপ্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় পানীয় জল পরিষেবা নিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর,লকডাউনের জেরে জলপ্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি তা শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ চলছে শম্বুকগতিতে। তাই জল পরিষেবায় সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে পিএইচই-র আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, ‘লকডাউন ও বর্ষার কারণে কয়েক মাস বন্ধ থাকলেও এখন জোরকদমে কাজ চলছে। দু’বছর আগে ফালাকাটা শহর লাগোয়া রাইচেঙ্গার অসম মোড়ে একটি জলপ্রকল্প চালু হয়। নির্মীয়মাণ মহাসড়কের পাশেই জলের বিশাল রিজার্ভার রয়েছে। তবে প্রথম থেকেই বংশীধরপুরের দুই পঞ্চায়েত এলাকার ট্যাপকলগুলিতে জল না পৌঁছানোর জেরে কয়েক হাজার মানুষ নলকূপের দূষিত জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার গত বছর চার লেনের মহাসড়কের কাজের জন্য ফালাকাটায় একাধিক জায়গায় জলের মূল পাইপ ভেঙে যায়। এজন্য প্রায় এক বছর থেকে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রাইচেঙ্গার একাংশ ও কাদম্বিনী চা বাগান এলাকায় পানীয় জল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। এইসব এলাকার বাসিন্দারা এখন ফালাকাটা শহরে গিয়ে খাওয়ার জল নিয়ে আসেন। অনেকে জারের জল কিনে খাচ্ছেন।‘

- Advertisement -

কাদম্বিনীর পঞ্চায়েত সদস্য শচীন ওরাওঁ বলেন, ‘মহাসড়কের কারণে পাইপ ভেঙে থাকায় মাসের পর মাস ধরে এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জল আসছে না। সেজন্য কয়েক হাজার মানুষ পানীয় জলের সংকটে সমস্যায় পড়েছেন।’

জল নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ফালাকাটার বংশীধরপুরে। এলাকার বাসিন্দা কেশব উপাধ্যায় বলেন, ‘পাশেই বিশাল রিজার্ভার থাকলেও জল পাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে বারবার পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েও কাজ হচ্ছে না।’

সম্প্রতি চরতোর্ষা ডাইভারশনের পাশে জলের পাইপ লাইন ভেঙে যাওয়ায় পুজোর আগে ও পরে দু’দফায় বেশ কিছুদিন কালীপুর, শিশাগোড় এলাকায় জল পরিষেবা বন্ধ ছিল। এদিকে মহাসড়কের পাশে পলাশবাড়ির দুটি পাম্প হাউসের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ এলাকার জল পরিষেবাও মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। মহাসড়কের কারণে গুদামটারি, নিউরোড, মেজবিল, পুঁটিমারি মোড়, নিউ পলাশবাড়ি এলাকায় মাঝেমধ্যে পিএইচই-র পাইপ ভেঙে যায়। কখনও পাইপ ফুটো হয়ে জলের অপচরয় হয়। এজন্য রাস্তার পাশে ভেঙে থাকা পাইপ থেকে অনেকেই জল সংগ্রহ করেন।

সূত্রের খবর, মহাসড়কের কারণে রাস্তার দু’পাশে থাকা জলের পাইপ লাইন সরানো হচ্ছে। এজন্য মহাসড়ক(এনএইচএআই) কর্তৃপক্ষ পিএইচই-কে টাকাও দিয়েছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে কয়েক মাস কাজ বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পুজোর আগে ফের এই কাজ শুরু হয়। তবে কাজে সেরকম গতি না থাকায় কবে বিস্তীর্ণ এলাকায় জল পরিষেবা স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এদিন পিএইচই-র আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, ‘মহাসড়কের যেখানে জমিজট কাটেনি সেখানে এখনও কাজ শুরু হয়নি। তবে জমিজট নেই সেরকম অধিকাংশ জায়গায় পুরোদমে পাইপ লাইন সরানোর কাজ চলছে।’