পানীয় জলের সংকটে তিন বনবস্তি

470

কৌশিক দাস, ক্রান্তি: পরিস্রুত পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন মাল ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন বনবস্তির প্রায় ৬ হাজার বাসিন্দা। বনবস্তিগুলিতে পানীয় জলের জন্য বেশ কয়েক বছর আগে কয়েকটি টিউবওয়েল বসানো হলেও সেগুলির বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গিয়েছে অথবা আয়রনযুক্ত জল বের হয়। বনবস্তির বাসিন্দাদের ভরসা কুয়োর জল। কিন্তু কুয়োর রিংগুলি ভেঙে যাওয়ায় নালার দূষিত জল সরাসরি কুয়োয় এসে পড়ছে। উপায় না থাকায় সেই জল পান করে পেটের অসুখ আর চর্মরোগে ভুগছেন এলাকাবাসী। গ্রীষ্মের শুরুতেই আপালচাঁদ জঙ্গল লাগোয়া ষোলোঘরিয়া বনবস্তিতে পানীয় জলের হাহাকার পড়ে। বেশিরভাগ গ্রামবাসী দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় পানীয় জল কেনার সামর্থ্য তাঁদের নেই। ফলে কুয়ো অথবা নদীর জলই তাঁদের ভরসা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই সমস্যায় ভুগলেও প্রশাসনের তরফে কোনও সুরাহা মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ ওরাওঁ বলেন, বনবস্তির উন্নয়নে সরকারের কোনও নজর নেই। বিভিন্ন বনবস্তি এলাকায় রিজার্ভার বসিয়ে পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়ার বন্দোবস্ত থাকলেও আমাদের এলাকায় সেই প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। ফলে দূষিত জল পান করে সারাবছরই আমরা পেটের অসুখে ভুগি। মেচপাড়াতেও পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে সব কিছুর জন্য কুয়োর জলই ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দা মানিক শৈব বলেন, উন্নয়নের ছোঁয়া আমাদের স্পর্শ করতে পারেনি। গ্রামে বেশ কিছু টিউবওয়েল থাকলেও জলে আয়রন। কুয়োর জলও পানের অযোগ্য। শীতের

- Advertisement -

দিনে জল কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও বর্ষায় দূষিত জল খেয়ে বছরভর পেটের অসুখ নিয়ে বেঁচে আছি। মাগুরমারি বস্তিতে গরম পড়তে না পড়তেই পানীয় জলের হাহাকার শুরু হয়। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বহু বছর আগে কিছু গ্রামবাসীকে কুয়ো ও নলকূপ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বেশ কিছু কুয়ো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টিউবওয়েলের জলে আয়রনের পরিমাণ বেশি। কিন্তু উপায় না থাকায় সেই জলই পান করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন ওরাওঁ বলেন, অসহায় অবস্থা আমাদের। কুয়ো, নলকূপ ভেঙে গিয়েছে। কিছু নলকূপ থেকে জল বের হয় না। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়ে কোনও

সুরাহা হয়নি। রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আবদুল মোতালেব হোসেন বলেন, বনবস্তিগুলিতে পানীয় জলের সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে আমরা আন্তরিক। গভীর নলকূপ বসিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। রিজার্ভার বসানোর পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। আশা করছি, এর ফলে গ্রামবাসীদের জলের হাহাকার দূর করা সম্ভব হবে। মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বলেন, সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ করা হবে।