রোগীর জল আনতে ৫ কিমি পাড়ি দেয় ওরাওঁপাড়ার বাসিন্দারা

121

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ : এই গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে পরিবারের সদস্যরা পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। উদ্দেশ্য একটাই, তাঁর জন্য পানীয় জল কিনে আনা। কারণ এই গ্রামে তেষ্টা মেটাতে হলে ভরসা কুয়োর ঘোলা জল। সেই জল পান করে সারাবছর পেটের অসুখে ভোগেন তাঁরা। মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ওরাওঁপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কর্তা থেকে রাজনৈতিক দলের নেতা, সবাই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনও কাজ হয়নি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯১ অন্দরান কুচলিবাড়ি পার্টের ওরাওঁপাড়ায় ৮ শতাধিক ভোটার রয়েছেন। বাসিন্দাদের বক্তব্য, গ্রামটি কাঁটাতারের বেড়াঘেঁষা এলাকা হওয়ায় এমনিতেই তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে পানীয় জলের সমস্যা। কুয়োর জলই ভরসা সবার। তবে সেখানে ঘোলা জল মেলে। বাধ্য হয়ে তাঁরা সারাবছর সেই জলই পান করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর জেরে তাঁদের পেটের রোগে ভুগতে হয়। কেউ অসুস্থ হলে তাঁর জন্য পাঁচ কিলোমিটার দূরে কুচলিবাড়ি বাজার থেকে বোতলবন্দি পানীয় জল কিনে আনতে হয়। এলাকায় মাত্র ৩টি নলকূপ রয়েছে। তবে সেই জলও পানের যোগ্য নয়। বর্ষায় যখন এলাকায় জল জমে, তখন দুর্ভোগ বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে পরিস্রুত পানীয় জল না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সকলেই। স্থানীয় বাসিন্দা নরেন ওরাওঁ বলেন, পানীয় জলের জন্য সমস্যায় পড়তে হয়। এইসব সমস্যা মেটানো খুবই দরকার। জলের সমস্যার পাশাপাশি গ্রামে যাতায়াতের সমস্যা রয়েছে। গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি আজও পাকা হয়নি। বর্ষায় জলকাদা জমে সেই পথে যাতায়াত করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। বেহাল রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স, দমকলের ইঞ্জিন সহজে গ্রামে ঢুকতে পারে না। মাইকেল কুজুর বলেন, বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে আমাদের এলাকায়। বর্ষাকালে সমস্যা বাড়ে। তখন রাস্তা আরও বেহাল হয়ে পড়ে।

- Advertisement -

সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ বাপি চক্রবর্তী বলেন, ওই গ্রামের মানুষের সত্যিই একাধিক সমস্যা রয়েছে। সেগুলির সমাধান হওয়া দরকার। কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জয়শ্রী রায় বলেন, ওই এলাকার মানুষের সমস্যা ও দাবির বিষয়গুলি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মেখলিগঞ্জের বিডিও অরুণকুমার সামন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।