বন্ধ গার্লস হস্টেলে বসছে নেশার আসর

238

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : একসময়ে ছাত্রীদের গলার স্বরে গোটা ভবন গমগম করত। বিকেল হলেই দোতলা ভবন পড়াশোনার আওয়াজে ভরে যেত। জ্যোৎস্নাময়ী গার্লস হাইস্কুলের একসময়ে সেই হস্টেল ভেঙেচুরে বর্তমানে নেশার আঁতুড় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই এখানে নেশাগ্রস্তদের উত্পাত শুরু হয়। ভগ্নপ্রায় এই হস্টেল থেকে বছরখানেক আগে একটি মৃতদেহ পর্যন্ত উদ্ধার হয়। এসবের সূত্রেই দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তৈরি এই গার্লস হস্টেল আজকাল বাসিন্দাদের কাছে রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯২৯ সালে জ্যোৎস্নাময়ী গার্লস হাইস্কুলের পথ চলা শুরু। স্কুল তৈরি হওয়ার সময়ে এই ভবন তৈরি করা হয়েছিল। শহর সংলগ্ন এলাকা সহ দূরদূরান্ত থেকে পড়তে আসা ছাত্রীদের কাছে এই হস্টেলই ছিল ভরসা। সন্ধ্যা হতেই সেখানে থাকা ছাত্রীদের পড়ানোর ব্যবস্থা করা হত। প্রতি সপ্তাহে একদিন করে অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করার পর সেই আনন্দ আজও সেদিনের ছাত্রীদের মনে রয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। হস্টেল রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত কর্মীরা একের পর এক অবসর নিয়েছেন। তাঁদের জায়গায় নতুন করে আর কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে হস্টেলটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এরপর ১২টা বছর কেটে গিয়েছে। আজকাল চারিদিক ঝোপঝাড়ে ভরা। সেই ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের উঁকিঝুঁকি। দোতলা ভবনজুড়ে এখন শুধুই আগাছা। ভবনের দেওয়ালে গাছের শিকড়। একঝলক দেখলে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হয়।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা রাজীব দাস বলেন, বাবুপাড়ার বাসিন্দাদের কাছে এই হস্টেলটি আলাদা সম্মানের জায়গা ছিল। হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য আমরা বাইরে থেকে হস্টেলে পাহারা দিতাম। হস্টেলটির বর্তমান পরিস্থিতি দেখে খুবই খারাপ লাগে। নেশাগ্রস্তরা বর্তমানে হস্টেলটিকে নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। রাজেশ তিওয়ারি হস্টেলের পাশেই থাকেন। তিনি বলেন, ভবনটির অংশবিশেষ যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। সমস্যা মেটাতে রাজীববাবুরা জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম নেতা তুফান ভট্টাচার্য বলেন, ভবনটার একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থার দাবিতে আমরা বেশ কয়েকবার স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না। ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর তথা জ্যোৎস্নাময়ী গার্লস হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, নেশাগ্রস্তরা যাতে পরিত্যক্ত হস্টেল চত্বরটিতে ঢুকতে না পারে সেজন্য চারদিকে উঁচু পাঁচিল করে দেওয়া হয়েছে। তবুও রাতের দিকে কেউ সেখানে ঢুকলে তা আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এছাড়া ভবনটির বিষয়ে ইতিমধ্যেই জ্যোৎস্নাময়ী প্রাথমিক স্কুলের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। প্রাথমিক স্কুলটি হস্টেলের জায়গায় সরে যাবে। আমরা পরিত্যক্ত হস্টেলটি ভেঙে যাবতীয় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করব। এরপর  সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বরাদ্দ হওয়া অর্থ দিয়ে প্রাথমিকের জন্য নতুন ভবন করে দেব।