ওদলাবাড়ি : ওদলাবাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরেই গাঁজা, নেশার ট্যাবলেট ও সিরাপের একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরা যুবসমাজকে নেশায় আচ্ছন্ন করে অন্ধকার গলিপথে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, স্কুল-কলেজ পড়ুযা সহ  শিক্ষিত বেকার যুবকদের একাংশ এই চক্রের পাতা ফাঁদে জড়িয়ে গিয়ে বিপথগামী হয়ে পড়ছে। এছাড়া, কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ী, নেশাখোর সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভ্যান ও টোটোচালক, এমনকি শিক্ষকতার পেশায় জড়িত ব্যক্তিরাও এর কবল থেকে বাঁচতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা সৌরেন দাস, তপন ঘোষ জানান, সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে গজিয়ে ওঠা অবৈধ এই কারবার দিনদিন নতুন খদ্দেরে আরও ফুলেফেঁপে উঠছে। ফলে নিত্যনতুন নেশা, গাঁজার ঠেক তৈরি করে ধীরে ধীরে হলেও ওদলাবাড়ির নতুন প্রজন্মের একাংশকে নেশার জগতে টেনে আনতে সফল হচ্ছে এই চোরাকারবারিরা। কোথাও নির্জন মন্দিরের আড়ালে, কোথাও আবার ঘন জঙ্গলে ঢাকা রেলের পরিত্যক্ত আবাসনে, দুপুর ও রাতের জনহীন রেলের প্ল্যাটফর্মে বসেই নিয়মিত জমিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের নেশার আসর।

তবে দেরিতে হলেও এই নেশার ঠেকগুলো ভাঙতে তত্পরতা দেখিয়েছে পুলিশ। মাল থানার ওসি অসীমকুমার মজুমদার বলেন, গত দুসপ্তাহের মধ্যে দুবার গোপন অভিযান চালিয়ে পাঁচজন যুবককে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, আটক যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন কয়েকজনের নাম পাওযা গিয়েছে, যারা নিয়মিত এই ঠেকগুলিতে চড়া দামে নেশার সামগ্রী পৌঁছে দেয়। এই সমস্ত নেশার কারবারিকে হাতেনাতে ধরতে পুলিশি তত্পরতাও শুরু হয়েছে।

প্রায় ৬০ হাজার জনসংখ্যার ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মতো ছোট্ট একটি জনপদে য়ে হারে যুবসমাজের একাংশ নেশায় আচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে তা নিয়ে পুলিশি মহলেও আশঙ্কা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি, ওদলাবাড়ির বুকে চুরি, ছিনতাইয়ে মতো ঘটনা বেড়ে চলার পাশাপাশি অসহিষ্ণুতার কারণে একাধিক মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেশায় আচ্ছন্ন যুবকের দল জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ওদলাবাড়িতে নেশার সামগ্রীর কারবার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। সাধারণ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন এবং সমাজসচেতন মানুষের সহযোগিতা ছাড়া একা পুলিশের পক্ষে এই অবৈধ কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।