ইসলামপুর থানার অদূরেই চলছে মাদকের কারবার

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : পুলিশের নাকের ডগায় ইসলামপুর শহর মাদক কারবারের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। চা, মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে সতীপুকুর শ্মশানঘাট, সর্বত্র বসছে অবৈধ নেশার ঠেক। নজিরবিহীনভাবে ইসলামপুর থানার পাশেই দেদারে বিকোচ্ছে নেশার সামগ্রী। অথচ পুলিশ নির্বিকার। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পুলিশের একাংশের মদতেই এই কালা কারবার চলছে? ইসলামপুরের পুলিশ সুপার শচীন মক্করকে এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ইসলামপুর পুরসভার প্রশাসক তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা তণমূল কংগ্রেস সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইসলামপুর শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের দুপাশে অবৈধ মদ, গাঁজা সহ বিভিন্ন নেশার সামগ্রীর ঠেক ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে। ইসলামপুর থানার ৫০ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে এই ধরনের একাধিক নেশার ঠেক রয়েছে। শুক্রবার ইসলামপুর থানার পাশে একটি চায়ের দোকানে আচমকা হানা দিয়ে দেখা গেল, প্রকাশ্যেই নেশার আসর চলছে। আসরে বসা আসক্তরা এবং দোকান মালিক ফাঁপড়ে পড়ে যায়। ক্যামেরায় মদের বোতল ধরা পড়তেই দোকান মালিক বেগতিক বুঝে পিছনের গেট খুলে দেয়। ঠেকে জমায়েত হওয়া মাদকাসক্তরা দোকানের পিছনের নর্দমার নোংরা জলে ঝাঁপ দিয়ে চম্পট দেয়। থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বিভিন্ন দোকানে যেভাবে অবৈধ নেশার ঠেক চলছে তাতে পুলিশ যে সবকিছু জেনেও চুপ করে বসে রয়েছে এই তথ্যই উঠে আসছে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সতীপুকুর শ্মশানঘাটে গিয়ে দেখা গেল একই দৃশ্য। টের পেতেই মাদকের ঠেকে বসা লোকজন অন্য গেট দিয়ে পালিয়ে যায়। সতীপুকুরের কেয়ারটেকার কিরণ বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন নেশার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে শ্মশানঘাট। মূলত গাঁজাই এই ঠেকে বেশি চলে। আমি মুখ খুলব কার ভরসায়? সবাই সবকিছু জানে, অথচ চুপ করে আছে। আমার নিরাপত্তা কোথায়? কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, এর আগেও শহরে নেশার কারবার ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। পুলিশকে বলার পর কিছুটা কাজও হয়েছিল। কিন্তু আবার এই চক্র সক্রিয় হয়েছে। পুলিশ কিছু করছে না কেন? যদি পুলিশের কেউ এসবের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তূপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশ কেন এই অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে নীরব, এর জবাব পুলিশকেই দিতে হবে।