কমবয়সিদের হাত ধরে কোচবিহার শহরে বাড়ছে মাদকদ্রব্যের কারবার

239

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : করোনা সংক্রমণের মধ্যেও কোচবিহার শহরে মাদকদ্রব্যের রমরমা বাড়ছে। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে শহরের মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে মদ, গাঁজা। কোথাও আবার এক ফোনেই মিলছে নেশার সামগ্রী। বেশ কিছু কমবয়সি যুবকও এই কারবারে যুক্ত হচ্ছে। ঘটনায় বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ সানা আখতার বলেন, ইতিমধ্যেই জেলার বেশ কিছু এলাকা থেকে গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কারবারিরা গ্রেপ্তার হয়েছে। সব জায়গায় আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।

আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোচবিহারকে করিডর করে গাঁজা পাচারের ঘটনা নতুন নয়। চোরাপথে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে দেশের ওপারে গাঁজা পাচার করতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে অনেক পাচারকারী। আবার জেলার উপর দিয়ে ভিনরাজ্যে মদ বা গাঁজা পাচার করতে গিয়ে পুলিশের খপ্পরে পড়েছে অনেকেই। মঙ্গলবার রাতেই দিনহাটা থানার পুলিশ ১২৪ কেজি গাঁজা সহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ১৭টি প্যাকেটে করে নয়ারহাট থেকে একটি লরিতে ভিনরাজ্যে সেগুলি পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দিনহাটা থানার পুলিশ পাচার ভেস্তে দেয়। ধৃত দুজনকে আটদিনের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার কোচবিহার-১ ব্লকের চান্দামারি থেকে ১৯৬ কেজি গাঁজা সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। গত ১২ জুন মাঘপালা থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১১০ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। ১০ জুন নিশিগঞ্জ ১০০ কেজি গাঁজা সহ তিনজনকে আটক করা হয়। ২৯ মে নিশিগঞ্জ থেকে ১০৩ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত হয়। গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। সম্প্রতি জেলা পুলিশের উদ্যোগে অবৈধ মদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গাঁজার চাষ করা হয়। কোচবিহারের কালপানি, চাঁপাগুড়ি, মালতীগুড়ি, দামোদরপুর, দিনহাটা মহকুমার মর্নেয়া, নাজিরহাট, বুড়িরহাট, মাথাভাঙ্গা, নিশিগঞ্জ, ফলিমারি সহ বেশ কিছু এলাকায় অবৈধভাবে গাঁজা চাষের খবর মিলেছে। সেখানে পুলিশি অভিযান চললেও তা কোনও কাজেই আসছে না বলে অভিযোগ। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে এত পরিমাণ গাঁজা চাষ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে কোচবিহার শহরেও গাঁজার রমরমা বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মূলত বাইকে চেপে কোচবিহার শহরে চলে আসছে প্যাকেটবন্দি গাঁজা। পুলিশি ধরপাকড় এড়াতে মূল রাস্তাগুলি বাদ দিয়ে অলিগলির রাস্তা দিয়ে শহরের কিছু কারবারির কাছে গাঁজা পৌঁছে যাচ্ছে। কোচবিহার শহর ও সংলগ্ন এলাকার প্রিয়গঞ্জ কলোনি, বালাপাড়া, পিলখানা, তোর্ষার বাঁধের রাস্তার বেশকিছু এলাকায় গাঁজা বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি দালাল মারফত একটি ফোনের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা। সহজেই নেশার সামগ্রী পেয়ে যাওয়ায় কমবয়সিদের মধ্যে নেশার প্রবণতা বাড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে। কোচবিহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি তথা আইনজীবী রাজু রায় বলেন, এসব বন্ধ করার জন্য পুলিশের সক্রিয় পদক্ষেপ করা উচিত। লকডাউনে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়েছে। অর্থাভাবে অনেকে অসৎ উপায় অবলম্বন করতে পারে। তবে তা বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।