পুলিশ চৌকির কল্যাণে নেশামুক্ত বাহিন গ্রাম, খুশি গ্রামবাসীরা

1090

রায়গঞ্জ: নেশামুক্ত গ্রাম গড়ে ওঠায় পুলিশের ভূমিকায় খুশি গ্রামবাসীরা। পুলিশ চৌকি গড়ে ওঠার মাত্র দু’মাসের মধ্যে গ্রাম নেশামুক্ত হয়ে উঠতে পারবে ভাবতে পারেননি তাঁরা। পুরোনো বাহিন জমিদার বাড়িকে কেন্দ্র করে নেশা, জুয়া সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে গ্রামের মানুষ তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছিল। রায়গঞ্জ থেকে পুলিশকর্মীরা বারবার সেখানে অভিযান চালিয়েও বন্ধ করতে পাচ্ছিলেন না নেশার ঠেক। বাংলা-বিহার সীমান্ত হওয়ায় বাহিন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশকে। অবশেষে গ্রামবাসীদের সাড়া দিয়ে রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা ছ’মাস আগে বাহিন পুরোনো রাজবাড়িতে একটি পুলিশ চৌকি তৈরির প্রস্তাব পাঠান রায়গঞ্জ জেলা পুলিশে। গত অক্টোবর মাসে বাহিনের পুরোনো জমিদার বাড়িতে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠে পুলিশ চৌকি। জমিদার বাড়ির একটি ঘর সংস্কার করে করা হয়েছে চৌকি। সেখানে পুলিশকর্মীদের জন্য নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, নেই কোনও শৌচাগার, নেই স্থায়ী রান্নাঘর। পাশে থাকা একটি বেসরকারি নার্সারি স্কুলের শৌচাগার ও টিউবওয়েল তাঁদের ভরসা। পরিকাঠামোহীন ভাবে চৌকিটি গড়ে উঠলেও দু’মাসের মধ্যে তাঁরা গ্রামের সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। গ্রামকে গড়ে তুলেছেন নেশামুক্ত এবং স্থানীয় যুবকদের সঠিক পথে চলার দিশা দেখাচ্ছেন তাঁরা। পুলিশকর্মীদের ভূমিকায় খুশি গ্রামবাসীরা। সেখানে রয়েছেন একজন এএসআই, পাঁচজন কনস্টেবল ও তিনজন সিভিক ভলান্টিয়ার।

বাহিনের পুরোনো জমিদার বাড়িটি বাহিন রাজবাড়ি নামেই পরিচিত। প্রতিদিন শহর ও গ্রামের বহু মানুষ এই জমিদার বাড়ি দেখতে আসেন। এই রাজবাড়িকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল মদ, গাঁজা, তাস, জুয়া, সহ আরও সমস্ত নেশার আসর। স্থানীয় ও বহিরাগত ছেলেমেয়েরা এসে এখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করত প্রায়ই। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল সাধারণ গ্রাম্য জীবনযাপন। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পুলিশ চৌকি গড়ে ওঠায় অল্প কিছু দিনের মধ্যে গ্রামীণ পরিবেশ স্বমহিমায় ফিরে এসেছে।

- Advertisement -

গ্রামবাসীরা চাইছেন সুন্দর পরিকাঠামো সহ পুলিশ চৌকি গড়ে উঠুক। কারণ যাঁরা সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা দিচ্ছে তাঁদের ভালো রাখা আমাদের কর্তব্য। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মকর্তাদের কাছে পুলিশ চৌকিটির পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, ‘বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পুলিশ ক্যাম্পের। সবকিছু দেখেশুনেই সেখানে ক্যাম্প করা হয়েছে। কারণ আমাদের পক্ষে রায়গঞ্জ থেকে সেখানে গিয়ে অভিযান চালানো কষ্ট হত। বর্ডারে পুলিশ থাকলে অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধ হবে।’ তিনি জানান, পুলিশ কষ্টে থাকলেও ডিউটি ঠিকঠাক পালন করে। নেশা সহ অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এই ক্যাম্প।