মাদক মামলায় নাম জড়াল দীপিকা পাড়ুকনের। অভিনেত্রীকে ডেকে পাঠাবে এনসিবি!

422

মুম্বই: একেই বলে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসা! মাদক মামলায় নাম জড়াল দীপিকা পাড়ুকনের। বলি-অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকনকে ডেকে পাঠাতে পারে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো(এনসিবি)। অন্তত একটি ইংরেজি নিউজ চ্যানেল সোমবার রাতে এমনই দাবি করেছে। সূত্রের খবর, দীপিকা পাড়ুকনের ম্যানেজারকে সমন পাঠিয়েছে নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর তদন্তকারীরা। তলব করা হতে পারে অভিনেত্রীকে।

সোমবার রিয়া চক্রবর্তীর প্রাক্তন ট্যালেন্ট ম্যানেজার জয়া সাহাকে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে এনসিবি। সূত্রের খবর, এরইমধ্যে জয়ার একটি হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট সামনে আসে। তাতে ডি ও কে-র মধ্যে কথোপকথন রয়েছে! এনসিবি সূত্রের চাঞ্চল্যকর দাবি, এই ‘ডি’ হলেন বলিউড সুপারস্টার দীপিকা পাড়ুকন! এবং ‘কে’ হচ্ছেন করিশ্মা। যিনি জয়া সাহা-র সহযোগী। এনসিবি আজ মঙ্গলবারও জয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে খবর।

- Advertisement -

এনসিবি সূত্রে দাবি, জয়ার কাছে পাওয়া হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট অনুযায়ী, দীপিকা, করিশ্মাকে প্রশ্ন করছেন, তোমার কাছে মাল আছে? করিশ্মার জবাব, হ্যাঁ, বাড়িতে আছে। তবে আমি বান্দ্রায়। যদি রাজি থাকো তাহলে অমিতের সঙ্গে কথা বলতে পারি। উত্তরে দীপিকা লিখছেন, হ্যাঁ, প্লিজ বলো। মিনিট চারেক বাদে করিশ্মার উত্তর, অমিতের কাছে আছে। তখন দীপিকা জানতে চাইছেন, ওর কাছে হ্যাশ আছে তো? উইড নয় কিন্তু। কিছুক্ষণ বাদে করিশ্মা লিখছেন, তুমি কোকোর কাছে কখন আসছ? দীপিকা জানান, ১১.৩০ কিংবা ১২টা।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হ্যাশট্যাগ দীপিকা পাড়ুকন লিখে কঙ্গনা রানাউত ফের টুইট করেছেন। টুইটে তিনি লিখেছেন, আমার সঙ্গে বলুন, মাদকাসক্ত হওয়ার পরিণতিই ডিপ্রেশন! তথাকথিত উচ্চবিত্ত পরিবারের তারকা সন্তান, যাঁরা নিজেদের উৎকৃষ্ট বলে দাবি করেন এবং ম্যানেজারকে প্রশ্ন করেন, ‘মাল আছে কি?’

এদিকে, সুশান্ত সিংহ রাজপুত মৃত্যু মামলায় মাদক-যোগে এনসিবি ইতিমধ্যেই সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী এবং তাঁর ভাই শৌভিককে গ্রেপ্তার করেছে। এ বার সেই সূত্রে অন্যদেরও ডাক পড়ছে। ইতিমধ্যেই এনসিবি ডেকে পাঠিয়েছিল সারা আলি খান এবং শ্রদ্ধা কপূরকে। ঘটনাচক্রে, দু’জনেই কঙ্গনা রানাউত বর্ণিত ‘স্টার কিড’। কিন্তু সেই তালিকায় দীপিকার নাম এসে যাওয়া নিঃসন্দেহে গোটা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও সোমবার রাত পর্যন্ত দীপিকার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নয়। তাঁর টুইটারে শেষ পোস্ট করা হয়েছে গত ১৯ জুলাই।

উল্লেখ্য, সুশান্তের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর নিজের অবসাদের কথা ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন দীপিকা। তখনও তাঁকে কটাক্ষ করেছিলেন কঙ্গনা। ‘অবসাদের নামে ব্যবসা চালাচ্ছে’ এমন মন্তব্যও করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। বলিউড তারকাদের মধ্যে নিজের অবসাদ নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন দীপিকা। তখন তিনি লিখেছিলেন, ‘রিপিট আফটার মি: ডিপ্রেশন ইজ ট্রিটেবল’। অর্থাৎ, অবসাদের চিকিৎসা হয়।

প্রসঙ্গত, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনে সমর্থনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন দীপিকা। কেন্দ্রীয় সরকার তথা শাসকদল বিজেপি কিন্তু বিষয়টি ভাল ভাবে নেয়নি। তার কয়েক দিন পরেই দীপিকার ছবি ‘ছপক’ মুক্তির কথা ছিল। বিজেপির একাংশ বলেছিল, ছবির প্রমোশন করতেই দীপিকা ওখানে গিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর প্রতি চূড়ান্ত কটাক্ষও ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল সেই সময়।