মালদা মেডিকেল চত্বরে মাদকের কারবার, ঢুকছে যৌনকর্মীরাও

490

হরষিত সিংহ, মালদা :  অন্ধকার নামতেই মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে মাদকের আসর বসছে। হাসপাতালের জরুরি ভবনের সামনে প্রকাশ্যে বসছে এই মাদক সেবনের ঠেক। রাত বাড়তেই বাড়ছে বহিরাগতদের আনাগোনা। অনেক সময় বহিরাগতরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি করছে রোগীর আত্মীয়দের। এমন অবস্থায় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আতঙ্কের মধ্যে রাত্রিযাপন করছেন রোগীর আত্মীয়রা। শুধু তাই নয়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেলের নির্মীয়মাণ ভবন থেকে ফাঁকা ওটিপি ভবনের বহুতলে যৌনকর্মীদের আনাগোনাও বাড়ছে। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দালালদের মদতেই যৌনকর্মীদের ঢোকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। কয়েকদিন আগে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে এক মহিলা ও পুরুষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ক্রমশ এমন বেআইনি কার্যকলাপ বাড়তে থাকায় মালদা মেডিকেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এমন ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন আধিকারিকরা। তবে মেডিকেলের কর্তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ না থাকায় কিছুই করতে পারছেন না তাঁরা। এর জন্য পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চাইছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। এমএসভিপি অমিতকুমার দাঁ বলেন, বিষয়টি আমার কানে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানাব।

চুরি-ছিনতাই তো বটেই, রোগীর আত্মীয়রা দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে হয়রান হচ্ছেন বলে প্রায়ই শোনা যায় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ধীরে ধীরে হাসপাতাল চত্বরে জাল বিছিয়েছে মাদকচক্র। এমনকি চোরাগোপ্তা চলছে যৌন ব্যবসাও। অন্ধকার নামতেই অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং জোনের কাছে বসছে মাদকের ঠেক। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ বাড়ছে ঠেকে বহিরাগতদের আনাগোনা। এছাড়াও হাসপাতালের সামনে রোগীর আত্মীয়দের প্রতীক্ষালয় থেকে ওটিপি ভবনের পেছনে নিয়মিত বসছে এই মাদকের ঠেক। মদ, গাঁজা থেকে ব্রাউন সুগারের মতো নেশা করছে বহিরাগতরা। শুধু মাদক সেবনই নয়, রীতিমতো ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন মাদকের কারবারিরা। বহিরাগতরা মাদক সেবন করে স্থানীয় খাবারের দোকান থেকে রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে অনেক সময় বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরে মাদকচক্র এতটাই সক্রিয় হয়ে উঠেছে, কেউ তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। রোগীর আত্মীয়রা জানাচ্ছেন, তাঁরা বাইরে থেকে এখানে পরিবারের সদস্যের চিকিত্সার জন্য এসেছেন। রাতে অনেক বহিরাগত আসছে। কিন্তু তাঁদের কিছু করার নেই। চুরি-ছিনতাইয়ে আতঙ্কে রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। তবে রাত বাড়লে হাসপাতালে সাধারণ মানুষের আনাগোনা কমতেই সক্রিয় হয়ে উঠছে যৌন ব্যবসা। ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালের এক্স-রে পরিসেবা চালু থাকে। তাই ওটিপি ভবন খোলা থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু দালালের সাহায্য নিয়ে ওটিপি ভবনের বহুতলে উঠে পড়ছে যৌনকর্মীরা। এছাড়াও হাসপাতাল ভবনের সামনে নবনির্মিত প্রতীক্ষালয়ে ঢুকে পড়ছে যৌনকর্মীরা। এভাবেই রাতের অন্ধকারে চলছে ব্যবসা। কয়েদিন আগেই নবনির্মিত ভবন থেকে দুইজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন মেডিকেলের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে দুইজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দেহব্যবসা ও মাদকের কারবার চলায় আরো একবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। মালদা জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, অভিযোগ পেলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -