কার্তিক দাস, খড়িবাড়ি : ভারত-নেপাল সীমান্ত খড়িবাড়ি থানা এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে মাদকের রমরমা কারবার। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, পুলিশ ও এসএসবির ধারাবাহিক অভিয়ান সত্ত্বেও বাড়ছে মাদকের ব্যবসা। সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতেও মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে। যুবকদের একাংশ, স্কুল, কলেজের তরুণ-তরুণীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন।

মূলত নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি এলাকাতেই প্রায় ত্রিশটি ঠেকে মাদকের ব্যবসার রমরমা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে নেপাল থেকে আসা বেশ কিছু যুবক এই ঠেকগুলিতে এসে মাদক সেবন করত। পরবর্তীতে পানিট্যাঙ্কি এলাকার তরুণ-যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। প্রথমদিকে মাদকের ঠেকগুলিতে বিভিন্ন নেশার ইনজেকশন, ট্যাবলেট, নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের মতো মাদক বিক্রি হলেও ধীরে ধীরে ব্রাউন সুগার, হেরোইনের মতো মাদক বিক্রি শুরু হয়। প্রধানত মাদক কারবারিরা কলকাতা ও মালদা থেকে ব্রাউন সুগারের মতো মাদক নিয়ে পানিট্যাঙ্কি এলাকার বিভিন্ন সাব-ডিলারের কাছে বিক্রি করছে। সাব-ডিলাররা  বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে এক গ্রাম ওজনের পুরিয়া তৈরি করে গ্রেড অনুযায়ী ৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছে বলে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে গঠিত হয় বিভিন্ন মাদকবিরোধী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পানিট্যাঙ্কি সোশ্যাল সোসাইটি, পানিট্যাঙ্কি নারীশক্তি সমিতি, বাতাসি সমাজকল্যাণ কমিটি  ইত্যাদি। এছাড়াও সিনি, ন্যাশনাল অ্যান্টি ক্রাইম অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার মতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রচারের ফলে এবং পানিট্যাঙ্কি পুলিশ ফাঁড়ির সক্রিয় সহযোগিতায় নেপাল সীমান্তবর্তী পানিট্যাঙ্কি ও বুড়াগঞ্জের মাদক ঠেকগুলি বন্ধ হয়েছে। তবে মাদক কারবারিরা তাদের মাদক বিক্রির ঠেক পরিবর্তনের সঙ্গে বিক্রির কৌশলও বদল করেছে। বর্তমানে মাদক বিক্রেতারা প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে তাদের অস্থায়ী ঠেক তৈরি করেছে। বর্তমানে তারা মাদকাসক্ত তরুণ-যুবকদের বাড়ি বাড়ি বাইকে করে গিয়ে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এছাড়া মাদক ব্যবসাযীরা মাদক বিক্রির মূল হাতিয়ার হিসাবে মাদকাসক্তদেরই ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দাবি করেছে। বর্তমানে মাদকাসক্তরাই মাদক ব্যবসাযীদের হয়ে মাদক বিক্রির কাজ করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, মাদক সেবনকারীদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় পুনর্বাসন ক্যাম্পে পাঠানোর  উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পানিট্যাঙ্কি সোশ্যাল সোসাইটির সভাপতি প্রতাপ লামা বলেন, পানিট্যাঙ্কি এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মাদক কারবারিরা তাদের ঠেক পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে তারা বাইকে করে মাদক হোম ডেলিভারি করছে। ইতিমধ্যেই পানিট্যাঙ্কি এলাকা থেকে ৩০টিরও বেশি মাদকসেবনের ঠেক তুলে দেওয়া হয়েছে।

দার্জিলিং পুলিশের ডিএসপি (রুরাল) অচিন্ত্য গুপ্ত বলেন, গত ১০ মাসে এনডিপিএস, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস ও বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্টে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু পানিট্যাঙ্কি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ৪৪টি এনডিপিএস এবং ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টের মামলায় ৯৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে।