দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : পুলিশের নজরদারি উঠতেই ফের ব্রাউন সুগার সহ একাধিক নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ি শহরের টাউন স্টেশন এলাকায়। এছাড়া স্পোর্টস কমপ্লেক্স সংলগ্ন করলা নদীর অ্যালি, রাজবাড়ি পার্ক সহ শহরের একাধিক জায়গায় রাতের অন্ধকারে নতুন করে নেশার আসর বসছে বলে অভিযোগ। তবে এই ঘটনার জন্য পুলিশের ঢিলেঢালা মনোভাবকেই দায়ী করছেন সকলে।

জলপাইগুড়ি শহরের টাউন স্টেশন, জয়ন্তীপাড়া এলাকায় অবাধে চলছে নেশার কারবার। মদ, গাঁজা, ইয়াবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম ওষুধ এমনকি ব্রাউন সুগার পর্যন্ত বিক্রি করা হয়ে থাকে লোকচক্ষুর আড়ালে। এই অভিযোগ শহরবাসীর বহুদিনের, যা একাধিকবার পুলিশি অভিয়ানে প্রমাণিতও হয়েছে। চলতি মাসের ৩ তারিখ রাতে স্টেশন রোড এলাকায় কিশোর দাস নামে সরকারি কর্মীকে খুন করা হয়। অভিযুক্তরা সেই সময় নেশাগ্রস্ত ছিল বলেও অভিযোগ। এরপর এলাকায় লাগাতার নজরদারি চালানো হতে থাকে পুলিশের তরফে। কিন্তু বেশ কিছুদিন এলাকায় সেইভাবে নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। আর এরই সুযোগে সক্রিয় হয়েছে নেশার কারবারিরা।

বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার দুই থেকে তিনজন ব্রাউন সুগার, ইয়াবা থেকে শুরু করে প্রায় সমস্ত রকমের নেশার দ্রব্যের ডিলার হিসেবে কারবার করে। আবার এদের অধীনে ৭ থেকে ৮ জন আছে, যারা ডিলারদের থেকে মাল নিয়ে খুচরো বিক্রি করে। মূলত দুটি রুট দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ব্রাউন সুগারের প্যাকেট নিয়ে আসা হয় এই শহরে। ভুটান থেকে জয়গাঁ, আলিপুরদুয়ার, ধূপগুড়ি হয়ে ব্রাউন সুগার ঢোকে জলপাইগুড়িতে। অন্য পথটি হল নামচি ভুটান রুট। জলপাইগুড়ি শহরে নিয়ে আসার পর স্টেশন রোডের কোনো এক বাড়িতে প্যাকেট খুলে নতুন করে ৫ গ্রাম করে প্যাকেট তৈরি করা হয়। এগুলি চকোলেট, পাতা, বিএস এইসব কোড নামে ৫০০ টাকা করে বিক্রি হয়।

জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দা বিবেক রায়, রতন সরকার, কাবেরী কুণ্ডুরা জানান, কোনো ঘটনা ঘটলেই পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে। তারপর কিছুদিন বাদে আবার ঢিলেঢালা। যে কারণে ফের সক্রিয় হয়েছে নেশার কারবারিরা। জেলা তৃণমূল যুবর সাধারণ সম্পাদক অজয় শা জানান, তাঁর বাড়ি স্টেশন রোডের উপর হওয়ায় তিনিও এই অসুবিধার সম্মুখীন হন। তিনি বলেন, সন্ধের পর স্টেশন রোড নেশাখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়। যারা এই কারবারের মূলপান্ডা তাদের ধরে শাস্তি দিলেই জলপাইগুড়ি শহরে এই নেশা কারবারিদের চক্র নির্মূল করা যেতে পারে। সন্ধের পর স্টেশন রোড, করলা নদীর অ্যালি, রাজবাড়িদিঘি সহ বিভিন্ন জায়গায় নেশার আসর বসছে। তবে না জেনে এখুনই এই বিষয়ে মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াই জে শ্রীকান্ত।